
মোহাম্মদ হানিফ,সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনী-কুমিল্লা পুরাতন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সালাহ উদ্দীন মোড় এবং ফেনী কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর সামনে প্রকাশ্যে ব্যারিকেড বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে লাঠিসোঁটা হাতে কিছু ব্যক্তি রাস্তার ওপর বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে সিএনজি, ট্রাক ও বাসচালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। সকালবেলায় শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষের জন্য পরিস্থিতি চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। ব্যারিকেডের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে, ফলে অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি ও অফিস কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন সিএনজি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা বা হয়রানির শিকার হতে হয়। এক ট্রাকচালক জানান, ভোরে মাল নিয়ে বের হয়ে সালাহ উদ্দীন মোড়ে এসে ব্যারিকেডের মুখে পড়তে হয়। টাকা না দিলে সামনে যেতে দেওয়া হয় না। এক বাসচালক বলেন, যাত্রীদের সামনে এভাবে টাকা দিতে হওয়া লজ্জাজনক এবং এতে পরিবহন শ্রমিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক অভিভাবক বলেন, সকালে সন্তানদের নিয়ে বের হলে ব্যারিকেড ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে যেতে ভয় লাগে। প্রশাসনের নীরবতা তাদের উদ্বিগ্ন করছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এভাবে প্রকাশ্যে রাস্তা আটকে অর্থ আদায়ের কোনো বৈধ অনুমতি আছে কি না। সচেতন মহলের মতে, সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এলাকাবাসী ফেনীর দায়িত্বশীল প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা—
অবৈধ ব্যারিকেড অপসারণ,
চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা,
গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার এবং
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
ফেনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।