
আলীকদমে দুর্গম পাহাড়ে আলীকদম সেনা জোন এর সহযোগিতায় হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম জোরদার: ব্র্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা।
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হাম-রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যে-আলীকদম সেনাজোনের সহযোগিতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ও এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগিতায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আজ থেকে উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।সম্প্রতি আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নে ম্রো সম্প্রদায়ের শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ এই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়ন এবং দোছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন, সেখানে ব্র্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা।
বিশেষ করে কুরুকপাতা ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় পাড়া কর্মীদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ (মোটিভেশন) কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড সংখ্যা সীমিত হওয়া সত্ত্বেও আমরা প্রতিদিন ১২০-১৩০ জন রোগীকে সেবা দিচ্ছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে দিনরাত কাজ করছেন যাতে প্রতিটি শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হয়”
।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্গম এলাকার সম্ভাব্য হাম আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করে তাদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার কাজ চলছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ব্র্যাকের কর্মীরা স্বাস্থ্য বিভাগকে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সহযোগিতা করছেন। বিশেষ করে ‘ব্র্যাক ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার’ ব্যবহার করে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে দুর্গম জনপদে টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।ব্র্যাকের স্থানীয় একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন,
পাহাড়ি এলাকায় টিকা পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা বদ্ধপরিকর। আমাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করছেন এবং ব্র্যাকের উন্নত প্রযুক্তির ভ্যাকসিন ক্যারিয়ারের মাধ্যমে টিকার গুণগত মান নিশ্চিত করে শিশুদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশ জয় করে প্রতিটি শিশুকে এই টিকার আওতায় আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় সচেতন মহল ব্র্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।