
মোহাম্মদ হানিফ,সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেনী-১ আসনের দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনের অধীন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে উভয় প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্ত দুই প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস. এম. কামাল উদ্দিন।
কীভাবে অভিযোগের সূত্রপাত
নির্বাচনী অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকে উভয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও সমর্থিত একাধিক আইডি ও পেজ থেকে নির্বাচনী পোস্ট, ব্যানার, স্লোগান এবং ভোট প্রার্থনামূলক বার্তা প্রচার করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সেল ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। শনিবার ১৭ জানুয়ারি এসব তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ায় কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সভাপতি, সিভিল জজ মো. এহসানুল হক উভয় প্রার্থীকে পৃথকভাবে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কেন তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
আইন কী বলছে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি, ২০০৮ অনুযায়ী—
তফসিল ঘোষণার পর অনুমোদিত সময় ও পদ্ধতি ছাড়া যেকোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভোট প্রার্থনা, পোস্ট, ভিডিও বা গ্রাফিক্স প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রার্থী ছাড়াও তার পক্ষে অন্য কেউ এমন প্রচারণা চালালেও দায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ওপর বর্তায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সতর্কতা, জরিমানা এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফেনী-১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা তাদের ব্যাখ্যা জমা দেবেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি প্রার্থীদের জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।