
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতওনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারের উপসচিব মোহাম্মদ রাশেদুল হক (পরিচিতি নম্বর–৬৮১৩)। দীর্ঘ শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ততার কারণে নতুন দায়িত্বে তাঁর নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাশেদুল হককে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব—উপসচিব (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পদায়ন-বিন্যস্ত)—থেকে বদলিপূর্বক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন।
শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের যাত্রা-মোহাম্মদ রাশেদুল হকের কর্মজীবনের সূচনা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মাধ্যমে। ২০০৬ সালের ১ মার্চ তিনি ক্যাডারে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ এপ্রিল ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর শিক্ষকতা জীবন।
দীর্ঘদিন শিক্ষাদানের পর ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পদোন্নতির পর ২২ নভেম্বর ২০১৬ থেকে ২৬ জুন ২০১৮ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি সরকারি মহিলা কলেজে ইতিহাস বিষয়ে অধ্যাপনা করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা,শিক্ষকতার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। চাকরি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৮ জুলাই তিনি ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্ক ফোর্স কার্যালয়, খাগড়াছড়িতে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রেষণে যোগ দেন।
এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শরণার্থী পুনর্বাসন, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং এ অঞ্চলের বিভিন্ন বাস্তব ও জটিল বিষয় সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।
ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট নানা বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর যে প্রত্যক্ষ পরিচয় তৈরি হয়েছে, নতুন দায়িত্বে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উপসচিব পদে পদোন্নতি, এরপর মন্ত্রীর একান্ত সচিব
কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইতিহাস বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন রাশেদুল হক। এরপর চলতি বছরের ১৭ আগস্ট ক্যাডার পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের উপসচিব পদে নিয়োগ পান তিনি।
এর মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানেই আসে নতুন দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২৪ আগস্ট তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়।
অর্থাৎ শিক্ষা ক্যাডারের দীর্ঘ কর্মজীবন থেকে প্রশাসনের উচ্চতর দায়িত্বে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।
অভিজ্ঞতাই হতে পারে নতুন দায়িত্বের বড় শক্তি
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাশেদুল হকের নতুন দায়িত্বে সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাঁর শিক্ষা, প্রশাসন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম—এই তিন ক্ষেত্রের সমন্বিত অভিজ্ঞতা।
একদিকে দীর্ঘ শিক্ষকতা তাঁকে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ করেছে; অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রম, দাপ্তরিক সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকেন্দ্রিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কারণে এ অঞ্চলের বিভিন্ন বিষয়েও রয়েছে তাঁর প্রত্যক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা।
সব মিলিয়ে মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে নতুন দায়িত্বে দাপ্তরিক সমন্বয়, নীতিগত কার্যক্রমে সহযোগিতা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতাভিত্তিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপনে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
নতুন দায়িত্বে নতুন প্রত্যাশা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এ অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ, পুনর্বাসন, প্রশাসনিক সমন্বয়, শান্তি-সম্প্রীতি এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমন একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া রাশেদুল হকের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব, তেমনি এটি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি নতুন অধ্যায়ও
শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন দায়িত্বে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন—সেদিকেই এখন দৃষ্টি সংশ্লিষ্টদের।