
মোঃ মাহবুবুল আলম বিভাগীয় ব্যুরো ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাংলাদেশ কাস্টমস হাউস আইসিডি কমলাপুরের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত সিপাহী আবু রায়হান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত আবু রায়হান তালুকদার (৪০) ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিয়মিত কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত ২৪ জুলাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই তার বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে রায়হান বাড়িতে কেয়ারটেকার রাজুর সঙ্গে ছিলেন। পরদিন রাজু ও তার বন্ধু জিতুল তাকে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে এগিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। এরপর রায়হানের কোনো সন্ধান না মিললেও রাজু ও জিতুল এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তাদের নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে রায়হানের বাড়ির চাবির একটি ছড়া বাজুয়া নদী থেকে উদ্ধারের কথা জানা যায়। এছাড়া নিখোঁজের পর তার ব্যাংক হিসাব থেকে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগও পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়। এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখে পুলিশ।
নিখোঁজের প্রায় ১০ দিন পর গত ২ আগস্ট রায়হানের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় রাখা তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহটি ১৫ টুকরো করা হয়েছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুলের নাম রয়েছে।
সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ, কারা কীভাবে এ ঘটনায় জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ অভিযান ও তদন্তের মধ্য দিয়ে কাস্টমস সিপাহী রায়হান তালুকদার হত্যার প্রকৃত রহস্য এবং জড়িতদের ভূমিকা উদঘাটিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।