
দাগনভুঁইয়ায় পিআইওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঠিকাদারদের ক্ষোভ
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যিরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ।
কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল স্থানীয় মহল
ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব কর্মকাণ্ডে উপজেলার ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পে কাজ পেতে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পিআইও রবিউল হোসেন নিয়মিতভাবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন না দিলে কোনো কাজ পাওয়া তো দূরের কথা, বরং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় ঠিকাদারদের।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, তিনি অফিস পরিচালনায় নিজস্ব একটি বাহিনী ব্যবহার করেন, যা সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অনেকের দাবি, সরকারি দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন, এমনকি ঠিকাদারদের কাজ করতে বাধা দিয়ে নিজেই সেই কাজ বাস্তবায়ন করেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, অফিসে বসেই তিনি চালের ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন, যা সরকারি চাকরির নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে করে প্রকল্পভিত্তিক খাদ্য বিতরণেও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল উত্তোলনের জন্য গেলে নতুন করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে বিল আটকে রাখা, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা এবং বিভিন্নভাবে অপমান করার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
কিছু অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার আচরণ অনেক সময় অস্বাভাবিক ও অসংযত, যা দেখে অনেকেই তাকে মাদকাসক্ত ব্যক্তির মতো মনে করেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।
এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণকারী দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ফেনী জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (ফেনী), জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং দাগনভুঁইয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে করে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদাররা হয়রানি থেকে মুক্তি পান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পিআইও রবিউল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।