
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একইছড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির একটি নির্বাচনী অফিসসহ বাজারের পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। ২ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা জানান, গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে। আশপাশের লোকজনের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পার্সের দোকানদার মাহবুবসহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আগুনে তাদের মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাজার সংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা মনির মিয়া জানান, বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার চিৎকার শুনে বাইরে এসে তিনি দেখেন বিএনপির নির্বাচনী অফিসের বৈদ্যুতিক তার জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের মুদি দোকানসহ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়। তার ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। স্থানীয় আবুল কালাম বলেন, গ্রামে কোনো ধরনের বিরোধ নেই। সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার কোনো কারণ নেই। দিনমজুর জুনায়েদও একই মত প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্রামে পারস্পরিক সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই এই অগ্নিকাণ্ডকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটজনিত বলেই তারা মনে করছেন। ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক সোহেল, শামিম, জাকির হোসেন এবং বিএনপি নির্বাচনী অফিসের ইমাম হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তবে নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হানিফ মিয়া বলেন, গ্রামবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি থাকলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসা থেকে কেউ আগুন দিতে পারে—এ আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিএনপির কার্যালয়সহ মোট পাঁচটি দোকান পুড়ে গেছে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।