
আলীকদমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি- বর্গা শিক্ষক দিয়ে স্কুল পরিচালনার,বিষয়ে প্রকাশিত সত্য সংবাদকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা
বিভ্রান্তিকর প্রতিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে অপপ্রচার, পাহাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাজীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
আলীকদম, বান্দরবান।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়া এবং পাহাড়ি শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উপজেলার ৪ নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক অনুপস্থিতির কারণে পাঠদান কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ’কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।
গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ’কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়গুলোর বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব বিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও সরকারি বেতন-ভাতা নিয়মিত গ্রহণ করে আসছেন।
এমন বাস্তব চিত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল অভিযুক্ত শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে অপসাংবাদিকতা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে “দৈনিক নতুন বাংলাদেশ”-এ প্রকাশিত, দৈনিক পূর্বদেশ-এ প্রকাশিত ,তথাকথিত “প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি” নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং অভিযুক্তদের দায় এড়াতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের প্রতিবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে সত্য সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চাপ সৃষ্টি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টাও চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন,
“যেখানে পাহাড়ে বসবাস করী বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর শিশুদের মৌলিক শিক্ষার অধিকার হুমকির মুখে, সেখানে সত্য সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানে দুর্নীতি ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া।”
অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন শিক্ষক অনুপস্থিতির কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের মুরু’সহ বিভিন্ন জাতি -গোষ্ঠীর শিশুরা মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় নির্মাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও যথাযথ তদারকির অভাবে সেই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে অতীতেও অনুপস্থিত ১৩জন, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানালেও তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট, কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,এ নিয়ে প্রশ্ন।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রকৃত সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর প্রতিবাদ ও অপপ্রচারে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় কঠোর নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সত্য সংবাদ প্রকাশ কোনো অপরাধ নয়—
পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অধিকার রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।