
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদমে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদার করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) আলীকদম উপজেলার আরুই পাড়ায় বড়দিন উদযাপন অনুষ্ঠানটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দঘন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরুই পাড়া ও ক্রংলিং পাড়ার সকল বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জানালীপাড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার বিএ-১২৪৯৩ লে. মোহাম্মদ মুবতাসিম ফুয়াদ অর্ণব। এছাড়াও আলীকদম সেনা জোনের আয়োজক কমিটির সদস্য, পাড়ার পুরুষ, নারী ও শিশুরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বড়দিনের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে উপস্থিতদের মাঝে নগদ ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সহায়তায় স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি প্রকাশ পায়। স্থানীয়রা জানান, সেনা জোনের এই মানবিক উদ্যোগ তাদের উৎসবকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
প্রধান অতিথি লে. মোহাম্মদ মুবতাসিম ফুয়াদ অর্ণব তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পারস্পরিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আলীকদম সেনা জোন সবসময় জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের পাশে থাকবে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধি করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানকালে স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা গভীর সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন। পাড়ার শিশুরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে এবং উৎসবের মধ্য দিয়ে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সার্বিকভাবে, বড়দিন উপলক্ষে আলীকদম সেনা জোনের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আর্থিক সহায়তা পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করেছে। এ আয়োজন প্রমাণ করে, সেনা জোন কেবল নিরাপত্তা নয়, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।