
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ভবনের রেলিং বিক্রিসহ নানা অভিযোগে কারন দর্শানো নোটিশ জেলা কর্মকর্তার
পাবনা জেলা প্রতিনিধি: জেলার বেড়া উপজেলার খাস আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ভবনের রেলিং বিক্রি, ভর্তির জন্য দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা গ্রহন করেও তাদেরকে ভর্তি না করা, নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না এবং তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেছেন পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর। অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক রবিউল ভর্তির সময়সীমার মধ্যে (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) স্থানীয় দুই শিক্ষার্থী নাজিয়াত (প্রথম শ্রেনী) এবং মো. ওবায়দুল্লাহ (তৃতীয় শ্রেনী) কে বিদ্যালয়ে ভর্তি করেননি। শুধু তাই নয়, তাদের দাখিলকৃত ছাড়পত্র ফ্লুইড দিয়ে মুছে ফেলেছেন। ভর্তির বিষয়ে কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা প্রধান শিক্ষক অনুসরন করেননি। এছাড়াও তিনি নীতিমালা অনুসরন না করেই গত ১৬ মে তৃতীয় শ্রেনীতে মো. ওবায়দুল্লাহ নামের এক শিক্ষাথীকে বর্তি করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র নম্বর, তারিখ ও অভিভাবকের স্বাক্ষর নাই যা বর্তি রেজিষ্টারে উল্লেখ রয়েছে। অপরদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ভবনের রেলিং অবৈধভাবে আমিনপুর বাজারের আব্দুল বাতেনের ওয়ার্কশপে বিক্রি করেছেন। পরবর্তিতে বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে জানাজানি হলে রেলিংটির ক্রেতা আব্দুল বাতেন ভয় পেয়ে রেলিংটি ফেরত দেন। এটিও দৃষ্টিগোচর হয়েছে শিক্ষা বিভাগের। আমিনপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সির আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর পুরো ঘটনার খবর নিয়ে সতত্য জানতে পারেন। এরপরে গত ৫ জুলাই উক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামকে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, রবিউলকে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমতে অসদাচারনের দায়ে অভিযুক্ত করা হলো এবং তাকে কেনো চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না তা স্বাক্ষরিত পত্রের দশ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযোগকারী রফিকুল ইসলাম মুন্সির পক্ষ অবলম্বন করে শিক্ষা অফিসে স্বাক্ষী দেওয়ার কারনে ৩ জনকে মারধর করেছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউলসহ কয়েকজন। তারা এই মারধরের বিচার দাবি করেন এবং দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে কঠোর বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।