1. thpshopbd@gmail.com : admin :
আলীকদমে তামাক চাষ কমলেও পরিবেশ ও কৃষিজমির ঝুঁকি রয়ে গেছে - probahonewstv
September 15, 2026, 1:12 pm

আলীকদমে তামাক চাষ কমলেও পরিবেশ ও কৃষিজমির ঝুঁকি রয়ে গেছে

মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ,বান্দরবান
  • Update Time : Wednesday, January 7, 2026
  • 246 Time View
আলীকদমে কমছে তামাক চাষ, বিকল্প ফসলে ঝুঁকছেন চাষীরা। তবে মুনাফা ও সরকারি প্রণোদনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পুরোপুরি পরিবর্তন এখনও চ্যালেঞ্জিং।

বিকল্প ফসলে ঝুঁকছেন চাষীরা, তবে মুনাফা ও প্রণোদনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ,বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী মোট ৩১৪ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হতো। চলতি মৌসুমে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩৪ হেক্টরে। তামাক চাষে নিরুৎসাহ ও বিকল্প ফসলের দিকে ঝোঁকার ফলেই এই হ্রাস ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের রোয়াম্বো এলাকায় সরেজমিনে একাধিক চাষীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষে যুক্ত থাকলেও এখন অনেকেই ধীরে ধীরে বিকল্প চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রায় এক দশক ধরে তামাক চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত চাষী গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি বর্তমানে তার বেশিরভাগ জমিতে তামাকের পরিবর্তে পেঁপে চাষ করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে পেঁপে চাষে খরচ কম হলেও মুনাফা প্রায় তামাকের সমান পাওয়া যাচ্ছে।

আরেক চাষী রেজাউল ইসলামও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, সরকারি কোনো প্রণোদনা না থাকায় এবং তামাককে ক্ষতিকর ফসল হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই নিরুৎসাহিত করায় তিনি বিকল্প চাষে ঝুঁকেছেন। শুধু এই দু’জন চাষীই নন, আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—তামাক চাষনির্ভর অনেক কৃষক এখন শাকসবজি ও ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে তামাকের তুলনায় অন্যান্য ফসলে মুনাফা কম হওয়ায় কৃষকদের পুরোপুরি বিকল্প ফসলে নিয়ে আসা এখনো চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা। তিনি বলেন, কৃষকদের বিকল্প শস্য ও বারি ফসলে উদ্বুদ্ধ করতে হলে পর্যাপ্ত প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও বাজার সহায়তা জরুরি।

এদিকে, নদীবেষ্টিত এই পার্বত্য উপজেলায় দীর্ঘদিনের তামাক চাষ পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তামাক চাষে ব্যবহৃত ইউরিয়া সার বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে মিশে মাতামুহুরী নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীর ঘেঁষে বছরের পর বছর তামাক চাষের ফলে নদীগর্ভ বিলীন হয়ে কোথাও কোথাও নদীর শাখা সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় সেই স্থান দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষ হওয়া জমিতে অন্যান্য বারি শস্য বা মৌসুমি ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে আলীকদম উপজেলার উল্লেখযোগ্য অংশের চাষযোগ্য জমি অনুর্বর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

See also  নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরা হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

তবে আশার কথা হলো, উপজেলার দুর্গম কয়েকটি আদিবাসী গ্রামে সরকারি প্রণোদনার ফলে গত কয়েক বছর ধরে সম্পূর্ণভাবে তামাক চাষ বন্ধ করে বাদাম চাষ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান কৃষি কর্মকর্তা। একই সঙ্গে মাতামুহুরী রিজার্ভ এলাকায় শতভাগ তামাক চাষ নিষিদ্ধ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য অনুযায়ী, আলীকদম উপজেলার প্রায় ৬০ শতাংশ চাষীই ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে সরে যেতে আগ্রহী। তবে তাদের বড় শঙ্কা—বিকল্প ফসল তামাকের মতো লাভজনক হবে কি না। সংশ্লিষ্টদের মতে, তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে সরকারের আরও অধিক মনোযোগ, কার্যকর প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত কাউন্সেলিংই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category