
মোহাম্মদ হানিফ, সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনী | ১৯ নভেম্বর ২০২৫
অল্প সময়ে স্বল্প খরচে প্রান্তিক জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দেশের গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ বিষয়ে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক
মো. ইসমাইল হোসেন।
গ্রাম আদালত: তৃণমূলের ন্যায়বিচারের সবচেয়ে সহজ পথ : সভায় বক্তারা জানান, দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের ছোটখাট বিরোধগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে গ্রাম আদালত তৃণমূল জনগণের জন্য সবচেয়ে সহজ ও স্বল্প–ব্যয়ী বিচার ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশজুড়ে হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা নিয়মিত আদালতের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী— দেশে ৪,৫০০+ ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সক্রিয়,
প্রতি মাসে গড়ে ২০–২৫ হাজার বিরোধ মামলা গ্রাম আদালতে রেফার হয়,
এর মধ্যে একটি বড় অংশ ৩০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
ফেনীতে গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণে বিশেষ গুরুত্ব : সভার আলোচনায় উঠে আসে— গ্রাম পুলিশের প্রশিক্ষণ, ইউনিয়নে সচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাম আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, সাধারণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের ক্ষমতায়ন , এসব বিষয়ে নতুন কর্মপরিকল্পনা।
প্রধান অতিথি জানান, “গ্রাম আদালত শক্তিশালী হলে সাধারণ মানুষ ব্যয়বহুল মামলার ঝামেলায় না গিয়ে নিজ এলাকার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার পেতে পারবেন।
ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা ও দক্ষতাই গ্রাম আদালতের সাফল্যের মূল ভিত্তি।”
সারাদেশে গ্রাম আদালতকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা : সরকার ইতোমধ্যে গ্রাম আদালত কার্যক্রমে নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ডিজিটাল মামলা রেজিস্ট্রেশন, ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট সংরক্ষণ, মামলার অগ্রগতি অনলাইনে পর্যবেক্ষণ, গ্রাম পুলিশের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রাম আদালতের বিচার আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে।
তৃণমূল থেকে জাতীয় আদালত—বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব: আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্রাম আদালত শক্তিশালী হলে— জেলা আদালতের মামলা কমবে , বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়বে , তৃণমূল মানুষের আর্থিক ও সময় ব্যয় কমবে , স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে , এছাড়া গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচারের অন্তর্ভুক্তি (Access to Justice) বৃদ্ধি করার এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার : সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করা গেলে গ্রাম আদালত বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হবে। সভায় উপস্থিতদের আহ্বান জানানো হয়— “গ্রাম আদালতকে জনবান্ধব করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”