
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা |
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে পৃথক আবেদন করেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত সোহেল রানা নিজ ইচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে সোহেল রানাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলেও পরে তিনি স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পুলিশের তথ্যমতে, নিহত শিশু রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্তের স্ত্রী কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান।
পরবর্তীতে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পাওয়া যায় এবং অন্য কক্ষে একটি পাত্রে তার মাথা রাখা ছিল। পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপরাধ লুকাতে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে মরদেহ বিকৃত করা হয়। পরে সেটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
গ্রেপ্তার ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।