
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের উদ্যোগে সম্প্রীতি বার্তা ও পথসভা এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির ৩৫তম দিনে অংশগ্রহণকারীরা “ভারতীয় আগ্রাসন মুক্ত, অবৈধ অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম চাই” স্লোগান তুলে ধরেন। কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে চৌদ্দটি সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি ও ঐক্যের ভিত্তিতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট তাদের ১৪ দফা গুরুত্বপূর্ণ দাবি জনসম্মুখে উপস্থাপন করে।
দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—
জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান। সারা দেশের প্রায় ৫০টি জাতিগোষ্ঠীকে নিজ নিজ জাতির নাম উল্লেখপূর্বক বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। বিতর্কিত সম্বোধন যেমন উপজাতি, অ-উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, আধিবাসী ও সেটলার বাঙালি বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিসত্তাগুলোকে স্পষ্টভাবে বাঙালি ও অ-বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়। ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানের লক্ষ্যে ভূমি আইন সংশোধন, সকল জাতির প্রতিনিধিত্বে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন এবং ভূমিহীন বাঙালি ও অ-বাঙালির মধ্যে ন্যায্য ভূমি বণ্টনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সকল নাগরিকের জন্য স্থায়ী বন্দোবস্ত নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিতে বক্তারা বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার রক্ষক। বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার মোকাবেলায় সকল সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
পরিকল্পিত বিভাজন রোধের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পাহাড়ে বাঙালি, অ-বাঙালি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্র চলছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, সকল জাতির সমঅধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংসদীয় আসন সংখ্যা তিন থেকে নয়টিতে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উন্নয়নের বিষয়ে বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য বিনামূল্যে মাতৃসেবা কেন্দ্র, মোবাইল মেডিকেল টিম গঠন এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে সকল শিশুর জন্য সমান শিক্ষা সুযোগ, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিশেষ বৃত্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।
জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে অবৈধ বন উজাড়, পাহাড় কাটা ও নদী দখল বন্ধের দাবি জানানো হয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণে অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সবশেষে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, সকল উন্নয়ন প্রকল্পে ডিজিটাল মনিটরিং ও অডিট ব্যবস্থা চালু করে জনগণের সামনে আয়-ব্যয়ের তথ্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।