
“১২ হাজার টাকায় মিলছে ‘নিষ্কলঙ্ক’ সনদ!” —
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ।
সোনাগাজী থানায় আসামিদেরও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার অভিযোগ
কনস্টেবল রিমনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ; টাকা না দিলে মাসের পর মাস হয়রানির দাবি প্রবাসীদের
ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন থানার কনস্টেবল মোঃ রিমন। স্থানীয়দের দাবি, মামলার আসামি এমনকি বিচারাধীন ব্যক্তিদেরও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও চারিত্রিক সনদ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে থানার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত প্রায় সব কাগজপত্র ও প্রসেস এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন কনস্টেবল রিমন। সম্প্রতি শাহাদাত হোসেন টিপু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও ১২ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে তাকে ক্লিয়ারেন্স পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই।
সরকারি ফি ৫০০, লাগছে ৪ হাজার!
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সরকারি খরচ মাত্র ৫০০ টাকা হলেও বাস্তবে খরচ করতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। ব্যাংক ড্রাফট, আবেদন ফি ও বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। থানার ভেতরে কনস্টেবল রিমনকে দিতে হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, পরে ফেনী থেকে ক্লিয়ারেন্স এনে দেওয়ার নামে আরও নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা।
ফলে একটি সাধারণ পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য একজন প্রবাসী বা বিদেশগামীকে গুনতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।
‘জরুরি ক্লিয়ারেন্স’ নামে আলাদা রেট!
অভিযোগ রয়েছে, ২-৩ দিনের মধ্যে জরুরি ক্লিয়ারেন্স নিতে চাইলে দিতে হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর কারও নামে মামলা বা আইনি জটিলতা থাকলে সেই রেট বেড়ে দাঁড়ায় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়।
ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, কেউ ঘুষ দিতে রাজি না হলে তাদের আবেদনে ইচ্ছাকৃত ভুল ধরা হয়, ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা মাসের পর মাস ঘুরিয়ে হয়রানি করা হয়।
প্রবাসীদের ক্ষোভ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ফেনী জেলার প্রবাসী ও বিদেশগামীরা। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ ও ফেনীর পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।