
নবীনগরের উরখলিয়া গ্রামে শান্তির ডাক—ঐক্যের জনসমাবেশে গ্রামবাসীর ঢল
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উরখলিয়া গ্রাম যেন নতুন এক বার্তা দিল—“বিভেদ নয়, চাই শান্তি ও ঐক্য।” শুক্রবার (০৩ মার্চ) গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির আঙিনায় আয়োজিত এক প্রাণবন্ত জনসমাবেশে এই বার্তাই উচ্চারিত হয় বারবার।
গ্রামের ছাত্র-যুবক, প্রবাসী, প্রবীণসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাবেশটি রূপ নেয় এক মিলনমেলায়। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ভুলে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে স্থানীয় সমাজসেবক ফিরোজ মিয়া বলেন,
“গ্রামের উন্নয়ন চাইলে আমাদের আগে নিজেদের মধ্যে বিরোধ ভুলতে হবে। ঝগড়া-বিবাদ রেখে কখনোই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ৪১ বছর ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত এই গ্রামে গত চার বছরে আউয়াল ভাইয়ের উদ্যোগে উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হয়েছে।
গ্রামের ইমাম সাজিদ বিন নূর ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে একসাথে মিলেমিশে থাকতে হবে।”
মো. শামসুল হক বলেন,
“গ্রামের মানুষের সুবিধার জন্য নিজেদের জায়গা ছেড়ে রাস্তা করা হয়েছে। কিছু বিরোধিতা থাকলেও আমরা বিশ্বাস করি—ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।”
সমাবেশের অন্যতম বক্তা সমাজসেবক আব্দুল আউয়াল তার আবেগঘন বক্তব্যে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“একসময় আমাকে এই গ্রাম ছেড়ে যেতে হয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছরে পারস্পরিক হিংসা ও অহংকারের কারণে অন্তত ১০ জন মানুষের প্রাণ গেছে। এমনও সময় ছিল, যখন মানুষ কবরস্থানে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গত এক দশকে উরখলিয়া, মনিরপুর, ভৈরবনগর ও বিদ্যাকুট এলাকায় প্রায় ২১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়েছে এবং নদীভাঙন রোধে সরকারি সহায়তায় ব্লক বসানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“আমি কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই—এই এলাকার মানুষের কল্যাণেই আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”
সমাবেশ শেষে উপস্থিত সকলেই এক কণ্ঠে অঙ্গীকার করেন—গ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
উরখলিয়ার এই জনসমাবেশ যেন প্রমাণ করল—ঐক্য থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়, শান্তির পথেই এগোতে চায় পুরো গ্রাম।