
মোঃ রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ)
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় এলপিজি গ্যাস এখন সাধারণ ভোক্তার জন্য সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। সারা দেশের মতোই এই অঞ্চলেও গ্যাস সিলিন্ডারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরু থেকেই বাসাবাড়ির রান্নার প্রধান জ্বালানি এলপিজি গ্যাস ঘিরে তৈরি হয়েছে হাহাকার। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে এর মূল্য ছিল ১২৫৩ টাকা। সরকার ঘোষিত বর্তমান ও পূর্বের মূল্য তালিকা অনুযায়ী—
১২ কেজি সিলিন্ডারের পূর্বের মূল্য ছিল ১২৫৩ টাকা, বর্তমানে ১৩০৬ টাকা।
২৫ কেজি সিলিন্ডারের পূর্বের মূল্য ছিল ২৬১০ টাকা, বর্তমানে ২৭২১ টাকা।
৩৫ কেজি সিলিন্ডারের পূর্বের মূল্য ছিল ৩৬৫৪ টাকা, বর্তমানে ৩৮০৯ টাকা।
৪৫ কেজি সিলিন্ডারের পূর্বের মূল্য ছিল ৪৬৯৯ টাকা, বর্তমানে ৪৮৯৮ টাকা।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ যখন গ্যাস কিনতে যাচ্ছেন, তখন খুচরা বিক্রেতারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে—
১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায়।
২৫ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকায়।
৩৫ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৪২০০ থেকে ৪৫০০ টাকায়।
৪৫ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৫৫০০ থেকে ৫৮০০ টাকায়।
আরশিনগরসহ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এই অতিরিক্ত মূল্য ভোক্তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে প্রবাহ নিউজ ২৪.কম–এর প্রতিনিধি মোঃ রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ) দেখতে পান, ভোর থেকেই ডিলারদের গোডাউনের সামনে শত শত খুচরা দোকানি খালি সিলিন্ডার নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন রিফিলের আশায়। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলাররা গ্যাস সংকটের অজুহাতে ক্যাশ মেমোতে কম দাম দেখিয়ে বাস্তবে বেশি টাকা নিচ্ছেন। এর ফলে খুচরা বিক্রেতারাও লাভের অজুহাতে আরও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ভোক্তারা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই একটি পরিকল্পিত নাটকের সঙ্গে তুলনা করছেন। ক্রেতারা বলছেন, ঘরে বসেই যেন ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে, দেখার কেউ নেই। যদিও চলতি জানুয়ারি মাসে বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন ওয়াশপুর এলাকায় কেরানীগঞ্জে এক গ্যাস সিলিন্ডার ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—খুচরা দোকানদারদের লাগাম টানবে কে? স্থানীয়দের ভাষ্য, গরিব মানুষের কান্না এখন তুষের আগুনের মতো নিভৃতে জ্বলছে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। অনেকে স্মরণ করছেন ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সেই বিখ্যাত স্লোগান— “ভাত দে, নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাবো।”২০২৬ সালে এসে যেন নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে—“গ্যাস দে, নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাবো।”
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।