1. thpshopbd@gmail.com : admin :
শিক্ষকদের চরম দায়িত্বহীনতার মধ্য দিয়ে চলছে ভবানীপুর বেতবাড়ি মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার পাঠদান। - probahonewstv
April 25, 2026, 7:01 pm

শিক্ষকদের চরম দায়িত্বহীনতার মধ্য দিয়ে চলছে ভবানীপুর বেতবাড়ি মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার পাঠদান।

Reporter Name
  • Update Time : Friday, April 3, 2026
  • 108 Time View

শিক্ষকদের চরম দায়িত্বহীনতার মধ্য দিয়ে চলছে ভবানীপুর বেতবাড়ি মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার পাঠদান।

নিজেস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভবানীপুর বেতবাড়ী মহিলা ফাজিল (ডিগ্রি মাদ্রাসা।১৯৮৬ সালে স্থানীয় অধিবাসীদের ওয়াকফকৃত জমিতে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফুলবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিনে এটিই একমাত্র মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা। সূচনা লগ্নে প্রতিষ্ঠানটি বেশ সুনাম অর্জন করেছিল। সময়ের পরিবর্তনে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের চরম দায়িত্বহীনতায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। যেখানে প্রতিবছর এখান থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করার সুযোগ পেত বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লেখাপড়ার মান অতি নিম্নমানের কারণে স্থানীয় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীগণ এই মাদ্রাসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। খাতায়-কলমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক শিক্ষিকা অফিস সহকারী ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যা ২৬ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর উপস্থিতি খুবই স্বল্প। গত ২/০৪/২০২৬ ইং তারিখে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাদ্রাসায় ছাত্রী উপস্থিত ২২ জন। তিনজন শিক্ষক একজন আয়া ও একজন অফিস সহকারী ব্যতীত অধ্যক্ষ সহ বাকি শিক্ষক কর্মচারী অনুপস্থিত। ক্লাস শুরুর ৪৫ মিনিট পরে শ্রেণিকক্ষ এগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষকের উপস্থিতি নেই। অফিসে গিয়ে লক্ষ্য করা যায় সেখানে কোন শিক্ষক নেই। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি। স্থানীয়দের তথ্যমতে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটি অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারী নিয়মিত আসেন না। আবার কেউ সকাল ১১ টায় উপস্থিত হয়ে দুপুর একটার মধ্যেই মাদ্রাসা ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান নিয়মিত বেতন ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ভোগ করেন এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ কিন্তু তাদের চরম দায়িত্বহীনতা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম সংখ্যা তৈরি করেছে। দিন দিন ক্লাস গুলোতে শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল বেশ অসন্তোষজনক ।২০২৫ সালে আলিম পরীক্ষায় তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সকলেই অকৃতকার্য হয়েছেন। এমন ফলাফলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন। এরই মাঝে বিভিন্ন সময় অতি গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাহাবুবুল আলম তোতা কর্মচারী নিয়োগের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গ্রহণ করেছেন। মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশের বাসিন্দা মোঃ এনামুল হক জানান ৯ বছর পূর্বে অফিস সহকারীর চাকরি নিয়োগের শর্তে তিনি এই প্রার্থীর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু আজও তার সেই চাকরি তিনি ফিরে পান নাই। অনেকটা হতাশা ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ভাবে এনামুল হক তার জীবন অতিবাহিত করছেন। স্থানীয়দের দাবি শিক্ষক ও কর্মচারীরা নিয়মিত উপস্থিত হয়ে তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালনের মাধ্যমে আত্মপ্রত্যয়ী হলে এই প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন শিক্ষার্থীরা পুনরায় পড়ালেখার সুযোগ পাবে। সেই সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাদের তদারকির মাধ্যমে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটি নতুন ভাবে উজ্জীবিত হয়ে এলাকার শিক্ষার হার বৃদ্ধি করবে। স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন করে অধ্যক্ষ সহ শিক্ষক ও কর্মচারীদের জবাবদিহি তার আওতায় আনা গেলে এ প্রতিষ্ঠানটি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

See also  সাদুল্লাপুরে আধুনিক প্রযুক্তির বিপ্লব, টেকসই কৃষি উন্নয়নে জামালপুর ইউনিয়নে কৃষক গ্রুপ গঠন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category