1. thpshopbd@gmail.com : admin :
সারা দেশ নেয় পাবনাও হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে শিশু রোগী বাড়ছে - probahonewstv
November 5, 2026, 9:50 am

সারা দেশ নেয় পাবনাও হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে শিশু রোগী বাড়ছে

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, March 29, 2026
  • 161 Time View

জেলা প্রতিনিধি মোঃ শাহিনুর খান পলাশ
পাবনায় হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ফলে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৭ জন।
আড়াই শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাতজন। আর গত সাত দিনে জেলায় ২৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮।

বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৭ রোগীর মধ্যে তিন মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ২৫টি। আর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুজন যুবকের মধ্যে একজনের বয়স ২২, অন্যজনের ৩২ বছর।

আজ রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনের মেঝে রোগীতে ঠাসা। পায়ে হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। একেকটি শয্যায় দু-তিনজন করে রোগী ভর্তি। এই ওয়ার্ডের বারান্দায় একটি কাচঘেরা কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসাধীন। সেখানেও একেকটি শয্যায় দুজন করে মেঝেতে চারটি শিশু চিকিৎসাধীন।

পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন তাঁর চার মাস বয়সী মেয়েশিশুকে ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখনো সুস্থ হয়নি তাঁর সন্তান। মেয়ের প্রথমে ঠান্ডা-জ্বর হয়। তারপর শরীরে ও মুখে লাল গুটি বের হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে। বিছানায় ঘুমাতে পারে না। এমন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে পরীক্ষা করলে তার হাম শনাক্ত হয়।

একই উপজেলার হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম তাঁর ৯ মাস বয়সী নাতি মাশরাফকে কোলে নিয়ে পায়চারি করছিলেন। সুফিয়া বেগম জানান, শিশুটিকে গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু এখানে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে চিকিৎসক এলেও নার্সদের ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না।

See also  সাদুল্লাপুর মোলং বাজারে রমরমা জুয়ার আসর: সর্বস্বান্ত স্থানীয়রা, নির্বিকার প্রশাসন

সদর উপজেলার মালিগাছা গ্রামের শিমলা খাতুন তাঁর আট মাস বয়সী ছেলে সাফায়াতকে ঈদের পরদিন ভর্তি করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ওষুধ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসক লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আর নার্স ও পরিচ্ছনতাকর্মী কেউ এই রুমে আসতে চাচ্ছেন না।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক তানভীর ইসলাম বলেন, ‘হামের রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পৃথক স্থানে রেখে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা নজরদারিতে রেখেছি।’

আড়াই শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল হাসান বলেন, এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুসহ যেকোনো বয়সী মানুষের হাম হতে পারে। আপাতত ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার কোনো ঘাটতি নেই।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিচালক বলেন, ‘৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ২০০ রোগীর ওপরে। আমাদের তো ওই ৩৮ শয্যার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু সংকট তো থেকেই যায়। তবে হামের জন্য নতুন করে একটি ওয়ার্ড চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।’ হামের টিকা নেওয়ার পরও কী কারণে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, সে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।

এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু-চারজন করে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। সে কারণে জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। যেহেতু ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়ার পরও নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাই টিকার কার্যকারিতাসহ বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category