
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি করে দেওয়ার নামে ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে হাতেনাতে আটক হয়েছেন রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। আটকের পরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন তিনি।
দুদক কর্মকর্তাদের সামনেই সার্ভেয়ার আসাদুল দাবি করেন, ‘এসিল্যান্ডের নির্দেশেই আমি ঘুষ নিয়েছি, তাকেও গ্রেপ্তার করুন।’ তাঁর এই বক্তব্যে অভিযুক্ত হয়েছেন লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম। তবে সার্ভেয়ারের এ অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
দুদক সূত্রে জানা যায়, লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজার বিভিন্ন দাগে থাকা ২৮২ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথকীকরণ এবং নকশা প্রস্তুতের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মনিরুল ইসলাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস ধরে ভূমি কার্যালয়ে ঘুরেও সমস্যার সমাধান না পেয়ে সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এ সময় জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি দুদককে জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির এক লাখ টাকা গ্রহণের সময় সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করেন দুদক কর্মকর্তারা।
তবে আটকের পর এসিল্যান্ডের নির্দেশে ঘুষ নেওয়ার দাবি পুরো ঘটনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সার্ভেয়ারের বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সার্ভেয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে এসিল্যান্ডের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।