
স্টাফ রিপোর্টার,আবু বক্কর ছিদ্দিক,ফেনী
বাংলাদেশের ইতিহাস কেবল সময়ের পরিমাপ নয়; এটি আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং নানা ষড়যন্ত্র ভেদ করে এগিয়ে চলা একটি জাতির আত্মপরিচয়ের গল্প। ১৯৭১ সালে রক্তের দামে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশটি ২০২৫ সালে এসে অর্জন, বিচ্যুতি ও নতুন প্রত্যাশার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার সূচনালগ্ন ও সাহসী ঘোষণা ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে একটি পরাধীন জাতিকে মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে ইতিহাসের মঞ্চে আবির্ভূত হন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি জাতিকে দিকনির্দেশনা দেন এবং নিজে অস্ত্র হাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিজয়কে ত্বরান্বিত করেন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত সেই ঘোষণা আজও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে আছে। স্বাধীনতার পর সংকট ও গণতন্ত্রের রুদ্ধদ্বার যুদ্ধোত্তর সময়ে দেশ গঠনের কঠিন বাস্তবতায় একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ওঠে। বাকশাল গঠনের মাধ্যমে বহুদলীয় রাজনীতির পথ সংকুচিত হলে গণতন্ত্র নিয়ে জাতির উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রে উঠে আসেন।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। অর্থনীতি, রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান তিনি।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও নতুন অনিশ্চয়তা
তবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হলে জাতি আবারও দিশেহারা হয়ে পড়ে। অনেকের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ভিন্ন এক আধিপত্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা শুরু হয়।
এক নারীর নেতৃত্বে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ
এই সংকটকালে রাজনীতির কঠিন অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দৃঢ়তা, সাহস ও দেশপ্রেমের কারণে তিনি জনগণের কাছে “গণতন্ত্রের মা” হিসেবে পরিচিত হন।
এক-এগারো ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা
পরবর্তীতে এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র আবার প্রশ্নের মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। এ সময় ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
নতুন সময়, নতুন প্রত্যাশা
দীর্ঘ পথচলার পর ২০২৫ সালে এসে আলোচনায় উঠে আসছেন শহীদ জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী নেতা তারেক রহমান। দেশবাসীর একটি বড় অংশের প্রত্যাশা, তিনি একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।
ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের পথনির্দেশ
১৯৭১ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ পথচলা আমাদের শেখায়, স্বাধীনতা শুধু অর্জনের নয়, সংরক্ষণেরও নাম। বাংলাদেশের ইতিহাস তাই অতীতের দলিল নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা ও প্রেরণার উৎস।
বাংলাদেশ—এই প্রত্যাশার নাম।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।