
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ বেলাল মিয়া
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় দীর্ঘ দুই যুগের বেশি ধরে ব্যবহৃত একটি ঐতিহ্যবাহী ভোটকেন্দ্রের ভৌগোলিক দূরত্ব ও যাতায়াত দুর্ভোগ কমাতে সেটিকে বিভক্ত করে দুটি আলাদা ভোট সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকনী গ্রাম এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত নতুন স্থানটি ১৭ আগস্ট সমবার বেলা বারটার দিকে । সশরীরে পরিদর্শন করেছেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল মোমেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আরাজী জামালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দুই যুগের বেশি ধরে অত্র এলাকার প্রধান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে চিকনী গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু এলাকার সাধারণ ভোটারদের জন্য এই কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। বর্তমান কেন্দ্রটি থেকে চিকনী গ্রামের দূরত্ব প্রায় ২.৫, শরু কাচা রাস্তা কিলোমিটার। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা-পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ ভোটারদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
এই জনদুর্ভোগ লাঘব করতে চিকনী গ্রামের সচেতন এলাকাবাসী ও তরুণদের উদ্যোগে আরাজী জামালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রটি ভেঙে দুটি আলাদা ভোট সেন্টার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়। বর্তমান এই আরাজী জামালপুর কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১২৫০ জন, যার মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন কেন্দ্রে চিকনী গ্রামের সম্ভাব্য ভোটার রয়েছেন প্রস্তাবিত ১৪০০ জন।
এলাকাবাসীর এই গণদাবির প্রেক্ষিতে সরেজমিনে প্রস্তাবিত নির্বাচনী এলাকা ও ভোটকেন্দ্রের উপযোগী স্থান পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল মোমেন। এ সময় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং চিকনী গ্রামের সাধারণ বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের বিবরণ শোনেন।
পরিদর্শনকালে দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে চিকনী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস আলী সরকার, সেলিম সরকার মানিক সাবেক মেম্বার (৯ নং ওয়াড) সৈয়দ আলী সরকার, সাহা জাদা সরকার,, নুর আলম আকন্দ প্রমুখ
বলেন, স্থানীয় বাসিন্দার মন্তব্য বর্ষার দিনে আমাদের মা-বোন ও বয়স্কদের আরাজী জামালপুর কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাটের যে অবস্থা, তাতে নির্বাচন কমিশন এখানে আলাদা কেন্দ্র করলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘুচবে।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল মোমেন জানান, “গণতন্ত্রে প্রতিটি ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আরাজী জামালপুর কেন্দ্রটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং চিকনী গ্রামবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা, দূরত্ব এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভোটকেন্দ্রটি বিভক্ত হলে চিকনী গ্রাম ও আশেপাশের হাজারো ভোটারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।