
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মো. ছগির (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিরঝিরি এলাকায় জুমের জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ছগির রূপসীপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিলেরতুয়া ছামাইছড়ি এলাকার নুর হোসেনের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কয়েকটি প্রতিবেদনে তাকে দিনমজুর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুমে যাওয়ার পথে মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা
স্থানীয় সূত্র রোববার সকালে কয়েকজন জুমচাষি কাজের উদ্দেশ্যে ওই দুর্গম এলাকায় যাওয়ার সময় ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, মরদেহটির হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয়দের জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি ছগিরের বলে শনাক্ত করেন।
রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলমও মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ, তদন্তে পুলিশ, লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানিয়েছেন, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ছগির কীভাবে ওই দুর্গম জুমের জমিতে পৌঁছালেন, তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে লামা থানা পুলিশ।
এদিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।