
এমডি সাহিনুর ইসলাম শাহীন, কিশোরগঞ্জ
পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও নির্মল ভালোবাসা হলো মায়ের ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর গভীর রাতে বৃদ্ধা মায়ের দোয়া নিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বিজয়ের উল্লাসের চেয়েও সেখানে বড় হয়ে উঠেছিল মা ও ছেলের অকৃত্রিম মমতার বন্ধন।
ত্যাগের পর মহাবিজয়
দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে জেল-জুলুম, অত্যাচার ও অসংখ্য মামলা-হামলা সহ্য করে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে নিজেকে সুসংগঠিত করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সৈয়দ এহসানুল হুদা।
মধ্যরাতের আবেগঘন দৃশ্য
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ছুটে যান তার অশীতিপর বৃদ্ধা মা সৈয়দা হাজেরা খাতুনের কাছে। গত কয়েক দিন ধরে ছেলের বিজয়ের জন্য তসবিহ হাতে জায়নামাজে দিন কাটিয়েছেন এই মা।
বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরতেই মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। এসময় বিজয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবনির্বাচিত এমপি তার মায়ের বুকে মাথা রেখে শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়েন। মা-ও তার আদরের সন্তানকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে দোয়া করেন। এই দৃশ্য উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অশ্রুসিক্ত করে তোলে।
“ছেলের প্রতি মায়ের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা উপস্থিত সবাইকে আবেগপ্লুত করে। এটি কেবল রাজনৈতিক বিজয় নয়, এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক মায়ের দোয়া কবুল হওয়ার মুহূর্ত।” — উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
জয় যখন জনগণের
বিজয়ের পর শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল জানান, এই জয় তার এলাকার সাধারণ মানুষের এবং তার মায়ের দোয়ার ফসল। তিনি এলাকার উন্নয়নে এবং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাজিতপুর-নিকলী রাজনৈতিক মহল বলছে, ইকবালের এই বিজয় তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধৈর্য, ত্যাগ এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।