1. thpshopbd@gmail.com : admin :
ফেনী বড় বাজারের রাত কেঁপে উঠল আগুনের লেলিহান শিখায়-দুই দোকান পুড়ে ছাই—ক্ষতি দেড় কোটি ছাড়িয়েছে; পানি সংকট, পুরোনো তার, অব্যবস্থাপনার মিশ্রণে ভয়াবহ বিপর্যয় - probahonewstv
August 2, 2026, 3:56 am

ফেনী বড় বাজারের রাত কেঁপে উঠল আগুনের লেলিহান শিখায়-দুই দোকান পুড়ে ছাই—ক্ষতি দেড় কোটি ছাড়িয়েছে; পানি সংকট, পুরোনো তার, অব্যবস্থাপনার মিশ্রণে ভয়াবহ বিপর্যয়

মোহাম্মদ হানিফ ( সহ-ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ )
  • Update Time : Sunday, November 30, 2025
  • 158 Time View
রাতের অন্ধকারে লেলিহান আগুনে পুড়ে ছাই বড় বাজারের স্বপ্ন—দুই দোকানের ক্ষতি দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। পানি সংকট, বৈদ্যুতিক তারের অব্যবস্থা ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছে ব্যবসায়ীরা।

ফায়ার হাইড্রেন্টহীন বাজারে নির্বাপণ সংকট; বৈদ্যুতিক তারের অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় জমে থাকা ক্ষোভ—“আজকেই শেষ সতর্কতা,” বলছেন মানবাধিকার প্রতিনিধি

মোহাম্মদ হানিফ
সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ

ফেনী বড় বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে আকস্মিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই মানুষজন চিৎকার করে ছুটে আসলেও তীব্র আগুনের কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আগুনের গর্জনে থরথর করে ওঠে বড় বাজার এলাকা।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আলম এন্টারপ্রাইজে। দোকানের মালিক নুর আলম ভস্মীভূত ধ্বংসস্তুপের সামনে দাঁড়িয়ে চোখ ভেজা কণ্ঠে বলেন— “সব শেষ… আমার সব শেষ… আমি কিছুই আর বাঁচাতে পারিনি।”

মালিকের দাবি, দোকানের স্টক, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও খাদ্যপণ্য মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেড় কোটি টাকারও বেশি। পাশাপাশি শরীফ মিষ্টি মেলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় দোকানটি।

পানি সংকট ও অপ্রস্তুতি—সবচেয়ে বড় শত্রু

অগ্নিকাণ্ডের সময় গোটা বাজারে পানি পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস উপস্থিত হলেও বাজারে কোনো ফায়ার হাইড্রেন্ট না থাকায় তারা ধারাবাহিকভাবে পানি আনতে বাধ্য হয়। এতে নির্বাপণ কাজে দেরি হওয়ায় আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “আগুনের চেয়েও অসহায় ছিলাম আমরা। শুধু তাকিয়ে দেখেছি সব পুড়ে যাচ্ছে—কিন্তু পানি ছিল না!”

কারণ: পুরোনো বৈদ্যুতিক তারে শট সার্কিট

বড় বাজারজুড়ে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা এলোমেলো বৈদ্যুতিক তার, অবৈধ সংযোগ ও পুরোনো লাইনই অগ্নিকাণ্ডের কারণ বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা।

মানবাধিকার সংগঠনের পরিদর্শন

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাশেম, সাবেক পৌর কমিশনার বেলাল হোসেন, কোঅর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম, ইনফরমেশন অফিসার ইব্রাহিম, ইনফরমেশন অফিসার আবু বক্কর ছিদ্দিক, জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

See also  ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা: আগুন, ককটেল ও মধ্যরাতের তাণ্ডবে আতঙ্কে একটি পরিবার

বিভাগীয় পরিচালক ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বলেন— “এ বাজারে পানি নেই, বৈদ্যুতিক লাইন ঝুলে আছে, কোনো ফায়ার হাইড্রেন্ট নেই—এটা সরাসরি মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলা। রাষ্ট্রীয় অবহেলার ভার আর বয়ে বেড়াতে পারে না জনগণ।”

আঞ্চলিক পরিচালকের আহ্বান

ফেনী জেলা জোনের আঞ্চলিক পরিচালক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—
“আজ নুর আলমের জীবন পুড়ে গেছে। কাল হয়তো আরও অনেক পরিবার শেষ হয়ে যাবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় বাজার মৃত্যুফাঁদে পরিণত হবে। অবিলম্বে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন ও বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কার করতে হবে।”

ফায়ার সার্ভিসের সতর্কতা

ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ বলেন— “বড় বাজার এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।”

সমাপনী কথা

ফেনী বড় বাজারের আগুন শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়— এটি আমাদের অপ্রস্তুতি, উদাসীনতা এবং দীর্ঘদিনের সিস্টেমগত ব্যর্থতার নির্মম উদাহরণ। আজকের আগুন ভবিষ্যতের আরও বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।


Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category