
মোহাম্মদ হানিফ, সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনীর রানিহাটে আধ্যাত্মিক আবহে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। শুক্রবার ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইজতেমার সূচনা করা হয়। আয়োজক কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ফেনীসহ পার্শ্ববর্তী মোট ১১ জেলার লক্ষাধিক সাথী ভাই ও মুসল্লি এই বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েতে অংশ নিচ্ছেন। এই বছরের ইজতেমার মূল মাঠ তৈরি করা হয়েছে বিরিঞ্চি, পপুলার এবং সোনাপুর ইটভাটার বিশাল পরিত্যক্ত এলাকায়। সমগ্র স্থানটি সামিয়ানা টাঙিয়ে একটি বৃহৎ ইজতেমা ময়দানে রূপান্তর করা হয়েছে। চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী টয়লেট, ওযুস্থান এবং খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লাখো মুসল্লির ঢল এবং উৎসবের আবহ আয়োজক কমিটির এক সদস্য জানান, আগত মুসল্লিদের আগমন বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই রানিহাটের প্রতিটি রাস্তা মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে বাস, মাইক্রোবাস ও নৌপথে মানুষের ঢল নামায় পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। ইজতেমা মাঠের মুরব্বিরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন থাকবে আম বয়ান, বিশেষ তালিম, দাওয়াতি কাজের পরামর্শ ও দোয়া। শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতে লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় গোটা এলাকা পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংগঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ময়দানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবা দিতে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মুসল্লিদের উচ্ছ্বাস
এক মুসল্লি বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমরা প্রতিবছরই এখানে আসি। এত বড় সমাবেশে অংশ নেওয়া আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।”
অন্য একজন বলেন, “আধ্যাত্মিক শান্তির পাশাপাশি মুসল্লিদের মিলনমেলা আমাদের ঈমানকে আরও দৃঢ় করে।” আখেরি মোনাজাতে লাখো মানুষের প্রার্থনা আগামী রবিবার আখেরি মোনাজাতে ইজতেমা শেষ হবে। সেদিন সকাল থেকেই লাখো মানুষের সমাগমে রানিহাট ও আশপাশের এলাকা পূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেনীর ধর্মীয় পরিবেশকে উজ্জীবিত করে এমন এ ইজতেমা শুধু আধ্যাত্মিক মিলনমেলাই নয়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যেরও এক অনন্য প্রতীক।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।