
নিজস্ব প্রতিনিধি, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ):
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুশমাইল টেকিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ লুৎফুর রহমান এবং কর্মচারী নুরুল হক–এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোঃ রেজওয়ান আহমেদ এই মামলাগুলি দায়ের করেন। জাল সনদে চাকরি ও কোটি টাকার আত্মসাৎ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক লুৎফুর রহমান জাল কাগজপত্র ও রেকর্ডপত্র সৃজন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ পান এবং ২১ লক্ষ টাকা বেতনভাতা হিসেবে আত্মসাৎ করেন। ২০১৩ সালে তিনি ইংরেজি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন, যদিও সেই সময় এনটিআরসি (NTRC) সনদ বাধ্যতামূলক ছিল। তার কাছে কোনো নিবন্ধন সনদ না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি—যিনি তার পিতা আব্দুর রশিদ—ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসীম উদ্দীনের সহযোগিতায় জাল নথি জমা দেন। পরে, তিনি ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বর যোগদানের তারিখ দেখিয়ে কাগজে জাল স্বাক্ষর তৈরি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
দপ্তরি নুরুল হকের বিরুদ্ধেও জালিয়াতির মামলা : অপরদিকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি–কাম–ঝাড়ুদার নুরুল হক–এর বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি ও একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে আলাদা মামলা দায়ের হয়েছে।
তিনি ১৫ বছর বয়স কমিয়ে জাল সনদপত্র সৃজন করে নিয়োগ পান এবং প্রায় ১৪ লক্ষ টাকারও বেশি বেতনভাতা আত্মসাৎ করেন বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। উভয় মামলাই ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে : দুদক বলেছে, প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।