
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দিতে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রকৃত হত্যাকারীর পরিবর্তে একজন স্কুলশিক্ষককে হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মামলার তালিকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার ঘটনা এলাকায় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হলে কাউকে হয়রানি করা হবে না।
গত ১ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে বড়িকান্দি গণি শাহ মাজার সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন তিনজন—শিপন (৩০), ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮)। পরে তালতলায় আরেকদল সন্ত্রাসী এমরান হোসেন মাস্টারের (৪২) অফিসে হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ শিপন ও ইয়াছিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এমরান মাস্টার এখনো ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার রাতে শিপনকে গুলি করেছে রিফাত বাহিনীর প্রধান রিফাত ও তার সহযোগীরা—এটি এলাকাবাসীর জানা সত্ত্বেও হত্যা মামলায় রিফাতের নাম রাখা হয়নি। বরং স্থানীয় রাজনীতির জেরে স্কুলশিক্ষক এমরান মাস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর ৫ নভেম্বর দুটি মামলা হয়—
প্রথম মামলায় নিহত শিপনের মা বাদী হয়ে এমরান মাস্টারকে প্রধান আসামি করেন।
অপর মামলায় বাদী এমরানের চাচাতো ভাই, যেখানে শিপনের বাবা মনেক ডাকাতকে প্রধান আসামি করা হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় ২০টির বেশি মামলা রয়েছে।
যদিও এজাহারে রিফাতের নাম না থাকলেও তার ভাই আরাফাতকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে র্যাব ও পুলিশ রিফাতসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে—রিফাত (৩০), লিমন (২৮), রুবেল (৪৫) ও রাশেদুল (৩৪)।
নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন,
মামলার বাদী কাকে আসামি করবেন, তা তাদের এখতিয়ার। তবে তদন্তে রিফাত ও গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে হয়রানি করা হবে না। সঠিক তদন্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত অপরাধীকে বাদ দিয়ে একজন স্কুলশিক্ষককে জড়িয়ে দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।