
মোঃ আলমগীর কবির
স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও জেলা
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে যৌথবাহিনীর অভিযানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক করার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই গ্রেপ্তার কতটা যৌক্তিক এবং আইনসম্মত? ৫৪ ধারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সন্দেহভাজন কাউকে সাময়িকভাবে আটক করার সুযোগ দিলেও, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই ধারার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার ভিত্তি ছাড়া কেবল ‘সন্দেহের বশে’ গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ আবুল কালাম আজাদ শুধু একজন সাবেক ছাত্রনেতাই নন, তিনি দীর্ঘদিন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতার সুবাদে তাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে—তিনি ছিলেন অমায়িক, বিনয়ী ও নিরহংকারী। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যেখানে মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রায় নিয়মিত আলোচনায় আসে, সেখানে আজাদ ছিলেন ব্যতিক্রম। তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো অভিযোগ কখনো শোনা যায়নি; বরং তিনি নিজে যেমন এসব থেকে দূরে ছিলেন, তেমনি অন্যদেরও নিরুৎসাহিত করতেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আইন প্রয়োগ যেন প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে না ওঠে। ‘আগে গ্রেপ্তার, পরে মামলা’—এই প্রবণতা ন্যায়বিচারের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে যে কোনো ব্যক্তির বিচার হওয়া উচিত, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু অপরাধ প্রমাণের আগেই হয়রানি হলে তা মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবেই বিবেচিত হয়।
রাজনীতিতে মতভিন্নতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতভিন্নতা যদি দমন, হয়রানি কিংবা আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তবে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠা অসম্ভব। আজাদ যদি কোনো অপরাধে জড়িত হয়ে থাকেন, তবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণ হোক। আর যদি তিনি নির্দোষ হন, তবে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে আইনের শাসনের প্রকৃত উদাহরণ। আমরা চাই, আইনের প্রয়োগ হোক সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে—প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।