
গাইবান্ধা,প্রতিবেদক মোঃ বেলাল মিয়া।
সিরাজগঞ্জ থেকে ট্রাকসহ ছিনতাই হওয়া ২৯ গরুর মধ্যে ৯টি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়, গরু গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তবে ট্রাকটি এখনও উদ্ধার হয়নি।
রোববার (৯ আগস্ট) সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর, তাজপুর,ইসবপুর,খোদদরসুলপুর,জামালপুর, দাউদ পুর, শঠিবাড়ী, হাঠেও পাওয়া যায়। তাজপুর গ্রামের একাধিক জরিত ব্যক্তির বাড়ি থেকে এই গরুগুলো উদ্ধার করে,মোট ১৫ টা গরু উদ্ধার হয়েছে।
সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে শনিবার ভোর রাত ৩টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল গরুগুলো ট্রাকসহ ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও গরুর মালিকরা জানান, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের কদিমকাকনা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আতোয়ার শেখ, জরিফ শেখ, বুদ্ধ শেখ, ইয়াদ আলী ও সানোয়ার মিয়া শুক্রবার বিকালে পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় হাট থেকে ২৯টি কিনে ট্রাকের করে বাড়ির পথে রওনা হন। পথে ওই এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল একটি খালি ট্রাক দিয়ে গরু বোঝাই ট্রাকটির পথরোধ করে।
এসময় বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মুখে গরু ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে মারধোর করার পর তাদের হাত-পা বেঁধে মহাসড়কের ধারে ফেলে রেখে গরু বোঝাই ট্রাকটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ডাকাতরা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকাও ছিনিয়ে নেয়।
গরু ব্যবসায়ীরা আতোয়ার শেখ জানান, এসময় তিনি ছিনতাই হওয়া ট্রাকে থাকা গরুর নিচে কৌশলে শুয়ে পরেন। ডাকাতরা ট্রাকটি নিয়ে রংপুর অভিমুখে রওনা হন। পথে রংপুরের পীরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে এসে ডাকাতরা টের পেলে তিনি ট্রাক থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমে যান। এসময় ট্রাকটি গাইবান্ধা অভিমুখে রওনা হয়। পরে খবর পেয়ে বাকি গরু ব্যবসায়ী ও তার আত্মীয় স্বজনরা পীরগঞ্জ এসে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে সাদুল্লাপুর উপজেলার তাহেরপুর তাজপুর গ্রামে ট্রাক থেকে ২৯টি গরু নামানো হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়। পরে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় ওই গ্রামের একাধিক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৯টি গরু উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় গরু চুরি করে সর্বস্বান্ত করে, এবং এগুলো এখানে এনে এলাকার বিভিন্ন খামারে রেখে পরবর্তীতে বিক্রি করে। তাদের ধারণা বাকি ২০টি গরু এই এলাকাতেই আছে।
উদ্ধার অভিযান কাজ চলছে।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বাকি গরু ও ট্রাক উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া এই গরু ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে।