
লেমুয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান যুদ্ধ: ১৩ প্রার্থী, মাঠ কাঁপাচ্ছেন ৫ হেভিওয়েট!
আবু বক্কর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।
তরুণ বনাম অভিজ্ঞতা, প্রতিশ্রুতি বনাম উন্নয়নের হিসাব—শেষ হাসি কে হাসবেন?
ফেনী সদর উপজেলার ৯ নং লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এখন তুমুল উত্তেজনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে উঠান বৈঠক, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই একটাই আলোচনা: “কে হচ্ছেন আগামী চেয়ারম্যান?”
ইতোমধ্যে ১৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে মাঠে সক্রিয়। তবে জনমতের হিসাব-নিকাশে চারজন প্রার্থীকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জনমতে এগিয়ে থাকা ৪ হেভিওয়েট প্রার্থী
🔹 মোহাম্মদ ফেরদৌস কোরাইশী (সাবেক চেয়ারম্যান)
উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলছেন,
“আমার সময়ে যে উন্নয়ন শুরু হয়েছিল, তা শেষ করতে আবারও জনগণের ম্যান্ডেট চাই। লেমুয়াকে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপ দেব।”
🔹 তৌহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন আমি জনগনের ভোটে নির্বাচিত হলে লেমুয়া ইউনিয়ন কে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো।
🔹 মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ (ব্যবসায়ী, সাবেক জামায়াত নেতা)
স্বচ্ছতার বার্তা দিয়ে তার বক্তব্য—
“দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই। জনগণের টাকায় জনগণের উন্নয়নই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
🔹 মোহাম্মদ হানিফ (সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)
অধিকার ও ন্যায়ের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান—
“চেয়ারম্যান মানে শুধু পদ নয়, দায়িত্ব। মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমার অঙ্গীকার।” লেমুয়া ইউনিয়নে প্রতিটি গ্রামকে মডেল গ্রাম হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব।
🔹 শহিদুল ইসলাম শহীদ (যুবদলের সাবেক সভাপতি)
তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করে বলছেন—
“সময় এসেছে নতুন চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের। তরুণদের শক্তি কাজে লাগিয়ে বদলে দিতে চাই লেমুয়াকে।”
মাঠে থাকা আরও ৯ প্রার্থী
এই জমজমাট লড়াইয়ে আরও যাঁরা আছেন—
সরওয়ার জাহান
মোহাম্মদ নুরুল আলম
আবুল বাসর
মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন
আলি মনসুর সুমন
তৌহিদুল ইসলাম রুবেল
শাহ আলম মিয়াজি
কামরুল ইসলাম
এ্যাডভোকেট শেখ বাহার উল্যাহ
তাঁরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ভোটারদের মনের ভেতর কী চলছে?
তরুণ ভোটাররা চাইছেন ডিজিটাল, স্মার্ট ও কর্মসংস্থানমুখী ইউনিয়ন
প্রবীণরা খুঁজছেন অভিজ্ঞ, সৎ ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব
সচেতন নাগরিকরা বলছেন—“দল নয়, কাজের মানুষ চাই”
সমীকরণ এখন টানটান
এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় লড়াই দাঁড়িয়েছে—
নতুন নেতৃত্ব বনাম পুরনো অভিজ্ঞতা
উন্নয়নের রেকর্ড বনাম নতুন প্রতিশ্রুতি
রাজনৈতিক প্রভাব বনাম ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা
প্রতিটি ওয়ার্ডে চলছে হিসাব-নিকাশ, কে কতটা শক্ত অবস্থানে আছেন—তা নিয়ে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা।
শেষ প্রশ্ন—ক্ষমতার মুকুট কার মাথায়?
লেমুয়া ইউনিয়নের এই নির্বাচন শুধু একটি স্থানীয় নির্বাচন নয়, এটি হয়ে উঠেছে মর্যাদা, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লড়াই।
শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই ঠিক করবে—
অভিজ্ঞতা জিতবে, নাকি নতুন নেতৃত্ব?
পুরনো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, নাকি নতুন পরিবর্তনের ডাক?
আপনার ভোট, আপনার মতামত!
আপনি কাকে লেমুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান? এখনই জানান—আপনার মতামতই হতে পারে ‘গেম চেঞ্জার’!