
বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও চাকরির লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিলেন লাখ লাখ টাকা—ভুক্তভোগীদের কান্না–আক্ষেপ
মোঃ বেলাল মিয়া
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বদলাগাড়ী গ্রামে “বন্ধু ফাউন্ডেশন সেবা সংঘ” নামের সংগঠনের সভাপতি মোঃ আবদুল্লা আল রিপনের বিরুদ্ধে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘর নির্মাণ, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, পুষ্টি ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, দর্জি প্রশিক্ষণ এবং ফায়ার সার্ভিসে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শতাধিক পরিবার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার পর রিপন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং পাওয়া যাচ্ছে না। তার বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পরিবার থেকেও কোনো সঠিক জবাব মিলছে না।
ভুক্তভোগীদের একজন জানান— “আমাদের উঠানে বসে শুধু কয়েকজনের হিসাব করা হয়েছে, তাতেই প্রমাণ পাওয়া গেছে ১ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ। গ্রামের অসংখ্য বাড়িতে এরকম অভিযোগ রয়েছে।”
ওই উঠানের ভুক্তভোগীদের তালিকা: লিমা বেগম — ১০,০০০ টাকা , মমেনা বেগম — ১২,000 টাকা , রুমি বেগম — ১৪,000 টাকা , রাশেদা বেগম — ১২,000 টাকা , স্বপ্না বেগম — ৯,000 টাকা ,
বাদশা — ১৮,000 টাকা , খালেদা — ১৮,000 টাকা , আইনুর — ১০,000 টাকা , রাশেদা — ৩২,000 টাকা , জান্নাতি — ১৫,000 টাকা
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, রিপন বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার বানাতেন এবং নিজেকে সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষকে বিশ্বাস করিয়ে টাকা নিতেন।
স্থানীয়দের দাবি— “রিপন আওয়ামী সরকারের সময় থানা লিডারদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতেন এবং শেখ রাসেল ক্রিয়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেখিয়ে গরিব মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন। এখন তিনি উধাও।”
অসহায় মানুষের আকুতি— “আমরা আমাদের কষ্টের টাকা ফেরত চাই, আর তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।”
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এমন প্রতারণা আরও বাড়বে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।