
ফেনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)–এর সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটি প্রকাশের পরপরই দলে দেখা দিয়েছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ, অসন্তোষ এবং বিভক্তি। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, আর্থিক অনিয়ম ও সাংগঠনিক অসদাচরণের অভিযোগে বহিষ্কৃত এক নেতাকে পুনরায় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় সিনিয়র নেতাদের একাংশ নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কমিটির ঘোষিত পদসমূহে রয়েছেন—
আহ্বায়ক: জাহিদুল ইসলাম সৈকত
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক: এ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মনসুর
সদস্য সচিব: শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক
সিনিয়র সদস্য সচিব: মোহাইমিন তাজিম
সাংগঠনিক সম্পাদক: সুজা উদ্দিন সজিব
সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক: জিয়া উদ্দিন ভাই
এ ছাড়া আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
ফেনীর কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, যিনি দলীয় তদন্তে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের প্রমাণে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তাঁর নাম নতুন কমিটিতে উঠে আসায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।
একজন নেতা বলেন,
“যে ব্যক্তি দলের নামে টাকা তোলে, সিনিয়র নেতাদের হয়রানি করে এবং সংগঠনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাকে হঠাৎ কমিটিতে আনা দলের আদর্শের প্রতি অবমাননা।”
আরেকজন দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীর ভাষ্য—
“ত্যাগীদের মূল্যায়ন নেই, বরং অনিয়মকারীকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে! এমন কমিটি আমরা মেনে নিতে পারি না।”
বেশ কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, কোনো সভা, আলোচনাপর্ব বা মাঠপর্যায়ের মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এক সিনিয়র নেতা জানান,
“কমিটি ঘোষণার আগে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। কাকে কোন পদে রাখা হলো—সবই অস্বচ্ছ ছিল।”
ফেনীর নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তিনটি দাবি তুলেছেন—
১. প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিকে কেন কমিটিতে রাখা হলো, তার ব্যাখ্যা
২. পূর্ববর্তী তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ
৩. স্থানীয় মতামতের ভিত্তিতে নতুন করে কমিটি পুনর্গঠন
এক প্রবীণ নেতা বলেন,
“এই কমিটি ফেনীতে গ্রহণযোগ্য নয়। কেন্দ্রীয় কমিটির তৎপর হস্তক্ষেপ জরুরি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত ত্যাগী নেতাদের হতাশ করতে পারে, কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমে দলের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। ফেনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় অস্থিরতা দলকে জাতীয় পর্যায়েও প্রভাবিত করতে পারে।
দলের ভেতর উত্তেজনা কমাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি তিনটি পদক্ষেপ নেয়ার প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে—
✔ ভুল বোঝাবুঝি সমাধান
✔ তদন্ত রিপোর্ট পুনর্বিবেচনা
✔ সবার মতামত নিয়ে গ্রহণযোগ্য নতুন কমিটি ঘোষণা
এনসিপির ফেনী জেলা কমিটি ঘোষণার পর যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন সংগঠনের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বহিষ্কৃত নেতাকে কমিটিতে ফেরানো ক্ষোভ আরও তীব্র করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।