
মোঃ রেজাউল হক রহমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভুক্তভোগী অভিযোগের টাকা ফেরত না পাওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আগের মতোই দায়িত্ব পালন করতে দেখে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী মো. রুবেল মিয়া অভিযোগ করেন, দরিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় নায়েব মো. শামসুদ্দোহা সরকারি অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৭৯ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর কাজ না করে একের পর এক অফিসে বদলি হয়ে যান ওই কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি নবীনগর সদর ভূমি অফিসে উপ সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করা হলেও তদন্ত কার্যক্রমের কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই বলে জানান ভুক্তভোগী। রুবেল মিয়ার ভাষ্য, “আমি লিখিত আবেদন করেছি, অফিসে অফিসে ঘুরছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমার বক্তব্য নিতে আসেনি। টাকা তো দূরের কথা, ন্যায়বিচারের আশাও কমে যাচ্ছে।” এদিকে অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির খবর পাওয়া যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ভূমি অফিসে দুর্নীতির ঘটনায় বদলি আর সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি মারুফ বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। আগেও বিচার সালিশ হয়েছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না থাকায় একই অভিযোগ বারবার ফিরে আসছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ভূমি সংক্রান্ত কাজে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ সহকারী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে প্রশাসনের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় পড়লে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কি প্রভাব খাটিয়ে সময় নিচ্ছেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন তাকে সংবেদনশীল দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি মামলারও দাবি উঠেছে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।