
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি, প্রেমিকের বাড়িতে ৪ দিন ধরে অনশনে থাকা প্রেমিকার
রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রেমিক এখন আড়ালে—এমন অভিযোগ তুলে টানা চার দিন ধরে প্রেমিকের বাড়ির আঙিনায় অবস্থান করছেন ওই নারী। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়নের বালিয়াজান গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াজান এলাকার হামিদ মার্কেট সংলগ্ন সিদ্দিক মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর। প্রেমের টানে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি পেয়ে একপর্যায়ে নিজের ৪ বছরের সন্তান ও সংসার ছেড়ে গত (১৮মে ২০২৬) সাব্বিরের বাড়িতে হাজির হন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, গৃহবধূ সাব্বিরের বাড়িতে আসার পর থেকেই প্রেমিক সাব্বির মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। এদিকে, বিয়ের দাবিতে অনড় ওই নারী ঘোষণা দিয়েছেন— দাবি পূরণ না হলে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন। ৪ বছরের শিশুসন্তানকে রেখে মায়ের এমন সিদ্ধান্তে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চলছে তীব্র সমালোচনা। একদিকে সংসারের ভাঙন, অন্যদিকে অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। ৪ বছরের একটি ফুটফুটে সন্তানকে ফেলে রেখে নিজের আবেগ বা মোহের পেছনে ছুটে চলা চরম দায়িত্বহীনতার শামিল। মায়ের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে অবুঝ শিশুটির নিরাপত্তা ও সুন্দর বেড়ে ওঠা আজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সন্তানের প্রতি এই অবহেলা সমাজ ও নৈতিকতার বিচারে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অন্যদিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা আবেগের দোহাই দিয়ে অন্যের সংসার ভাঙা এবং প্রকাশ্যে অনশন করে এলাকায় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা স্থানীয় সামাজিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের সুস্থ পারিবারিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সচেতন মহল বলেছেন,ঘটনার জেরে কেবল দুটি পরিবারেরই সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়নি, বরং পুরো এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। পারস্পরিক সমঝোতা বা আইনি পথ না খুঁজে আবেগতাড়িত হয়ে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত পুরো এলাকার পারিবারিক ও সামাজিক ভাবমূর্তিকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।