
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে কয়েকশ একর বোরো ধান পুড়ে ছাই হয়ে যায়
রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১,০৫৯ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে আজ ১৮ মে ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
কৃষকদের আন্দোলনের পর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছে, যা সাধারণ কৃষকদের মনে আস্থার সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজারেরও বেশি কৃষক সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। বিঘা প্রতি আবাদি খরচ নিরূপণ করে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, যা কৃষকদের পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদে কিছুটা সাহায্য করবে।
ইটভাটা মালিকদের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মাধ্যমে তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি সর্তকবার্তা হিসেবে কাজ করবে। প্রথম দিন ৫৬৬ জন কৃষক প্রতি শতাংশ ৪০০ টাকা হারে ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ টাকা পেয়েছেন। বাকি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আগামী বৃহস্পতিবার ক্ষতিপুরনের টাকা পাবেন।
অনেক কৃষকের দাবি, যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তা তাদের মোট লোকসানের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ধানের বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় বিঘা প্রতি ক্ষতিপূরণ অনেক কম। এবং আমরা সবাই যেন ক্ষতিপূরণ পায় সেই দিকে খেয়াল রাখবেন।
ইটভাটার গরম গ্যাস ও ধোঁয়ায় কেবল চলতি মৌসুমের ফসল নয়, বরং জমির উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে আগামী কয়েক বছর ঐসব জমিতে ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে।
মির্জাপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি জমির মাঝে আইন অমান্য করে গড়ে ইটভাটার অধিকাংশেরই বৈধ অনুমোদন নেই। প্রশাসনিক অভিযানের পরও ভাটা মালিকরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও কৃষি অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি।
প্রতি বছরই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সাময়িক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও আবাসিক ও আবাদি এলাকার ভেতর থেকে ইটভাটাগুলো সরিয়ে নেওয়ার কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এখনো দৃশ্যমান নয়। ক্ষতিপূরণ প্রদান একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, মির্জাপুরের কৃষিকে বাঁচাতে পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আধুনিক ‘গ্রিন ব্রিক’ প্রযুক্তি ব্যবহারে মালিকদের উৎসাহ করা এখন সময়ের দাবি।