1. thpshopbd@gmail.com : admin :
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধ ইটভাটার দাপটে হুমকির মুখে কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্য। - probahonewstv
May 30, 2026, 11:42 pm

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধ ইটভাটার দাপটে হুমকির মুখে কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্য।

Reporter Name
  • Update Time : Friday, May 8, 2026
  • 18 Time View

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধ ইটভাটার দাপটে হুমকির মুখে কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্য।

রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।

উপজেলার ১১৪টি ইটভাটার মধ্যে ৬৯টিই অবৈধ বলে জানা গেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমির পাশে গড়ে ওঠা এসব ভাটার কারণে ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা যেন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বর্তমানে এই উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১১৪টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৬৯টি ভাটারই নেই কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা বৈধ অনুমোদন। এর ফলে বৈধ ইট ভাটা গুলো সংকটে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, একটি উপজেলায় কতটি ভাটা থাকবে তা নির্ভর করে ওই এলাকার মাটির ধরন এবং পরিবেশের সহনশীলতার ওপর। আইনে স্পষ্ট বলা আছে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমি থেকে অন্তত ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

বনভূমি ও সরকারি সংরক্ষিত এলাকা থেকে অন্তত ২ কিলোমিটার দূরে ভাটা থাকতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি নির্দিষ্ট ব্লকে অতিরিক্ত ইটভাটার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ মির্জাপুরের চিত্র ভিন্ন। বহুরিয়া ও গোড়াই সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আবাদি জমির বুক চিরে গড়ে উঠেছে এসব চিমনি। এতে মাটির উর্বরতা কমছে, আর কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানসহ নানা ফসল। অপরদিকে আজগানা , বাশতৈল ও তরফপুর ইউনিয়নের কিছু সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একাধিক ইটভাটা। সম্প্রতি ইটভাটার তপ্ত গ্যাসে কয়েকশ একর জমির ধান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে একের পর এক ভাটা গড়ে উঠলেও প্রশাসনের অভিযান যেন আইওয়াশ মাত্র। কিছু ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও কিছুদিন পর তা আবার চালু হয়ে যায়।

বহুরিয়া ইউনিয়নের এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, এখানে কোনো নিয়ম নেই। আমাদের সব জমি এখন ইটভাটার দখলে। ধানের চেয়ে ধোঁয়াই বেশি পাই আমরা।

See also  বগুড়ায় সংবাদকর্মীর ওপর হামলা: গ্রেপ্তার ১, পলাতক যুবলীগ নেতা মহল

পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য মির্জাপুর গড়তে অবৈধ ভাটাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আইন মেনে ভাটার সংখ্যা কমিয়ে আনার দাবি এখন সাধারণ মানুষের।

প্রযুক্তিগতভাবে, উন্নত দেশগুলোতে এবং আধুনিক নির্মাণে পোড়ানো ইটের বিকল্প হিসেবে ফাঁপা ইট বা ‘ইকো-ব্রিকস’ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী,২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি নির্মাণ কাজে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যদি এলাকাটি কৃষিপ্রধান হয়, তবে সেখানে একটি ইটভাটা থাকাও ক্ষতিকর। অধিক ঘনত্বের ইটভাটা স্থানীয় জলবায়ুকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামিয়ে দেয়।

তাই মির্জাপুরের মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় ১১৪টি ভাটা যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অধিক কেবল সংখ্যাগত আধিক্যই নয়, বরং এটি পরিবেশের জন্য একটি ভয়াবহ বোঝা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category