
ফেনীর আলোচিত শহীদ ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলা নিয়ে নতুন করে এক চক্রান্ত ও তথ্য বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ আগস্ট মহিপালে আন্দোলনের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় শিহাবসহ সাতজন নিহত হন। পরে ২০ আগস্ট নিহত শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার ফেনী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১৪, জিআর-৩৭২/২০২৪)।
প্রধান আসামি ও চার্জশিট : মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম আছে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আলাউদ্দিন আহম্মেদ নাসিম এবং নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ তিন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির।
পুলিশ ইতোমধ্যে ১৫১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে এবং আটক কয়েকজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রহস্যজনকভাবে ‘মামলা প্রত্যাহারের তালিকায়’ নাম অন্তর্ভুক্ত সম্প্রতি জানা যায়, এই গুরুতর মামলাটি সরকারের ‘মামলা প্রত্যাহার তালিকায়’ যুক্ত হয়েছে। কিন্তু বাদী ও বাদীপক্ষের আইনজীবী কেউই এ বিষয়ে জানেন না বা কোনো আবেদনও করেননি—যা পুরো প্রক্রিয়াকে সন্দেহজনক করেছে। জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে মামলা প্রত্যাহার কমিটি ৫৮০টি মামলা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়, যার মধ্যে ২৩১টি মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগ রয়েছে, শিহাব হত্যা মামলার তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত বা পরিবর্তন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে — যেমন ভুল থানার নাম ও তারিখ দিয়ে, কিন্তু জিআর নম্বর অপরিবর্তিত রেখে নিচের দুই আসামির নাম ব্যবহার করা হয় যাতে প্রধান আসামিদের নাম আড়ালে থাকে।
পিপি ও প্রশাসনের বক্তব্য : ফেনীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মেছবাহ উদ্দিন খান জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই; নথি যাচাই করলে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তিনি বলেন, “এটি হয়তো ভুল বা কম্পিউটার ত্রুটি হতে পারে।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজের দাবি, এটি কেবল ‘ত্রুটি’ নয়, বরং উদ্দেশ্যমূলক চক্রান্ত। পরিবারের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া নিহত শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার জানান, মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়ে টাকার লোভ দেখানো হয়েছিল, এমনকি “তিনজনকে বাদ দিলে তিন লাখ টাকা” পর্যন্ত প্রস্তাব এসেছে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “কোটি টাকা পেলেও পুত্র ফিরে আসবে না। তাই কোনো আপস নয় — হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
আইনজীবীর বক্তব্য : মামলার আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা জানান, তিনি বিনা পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, “আমি শিহাব হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী। কোনো প্রকার প্রভাব বা চাপে আমরা পিছু হটব না; ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবেই।” ন্যায়বিচারের আহ্বান : স্থানীয় নাগরিকরা মনে করছেন, বাদী ও তার আইনজীবীর অজ্ঞাতে এই মামলার প্রত্যাহার তালিকাভুক্তি গণতান্ত্রিক ও বিচারব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। শিহাবের পরিবার এখনো বিশ্বাস করে, সংবিধান ও আদালতই সত্যের আশ্রয়স্থল।
সতর্কবার্তা : ফেনীর পিপি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে শিহাব পরিবারের হুঁশিয়ারি — “বিচার প্রক্রিয়া যাতে বিকৃত না হয়, সে বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকুন; নচেৎ প্রশাসনের গদি টিকবে না।”