
ফেনীর লালপোলে সাংবাদিক পরিচয়ে খাল দখলের অভিযোগ, অবৈধ দেয়াল নির্মাণে জলাবদ্ধতা
আবু বক্কর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।
মক্কা বসির কমিউনিটি সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ; বক্তব্য নিতে গিয়ে কল রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইলের অপচেষ্টার দাবি
ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লালপোল এলাকায় সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, “মামত ভাই” নামে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খালের একটি অংশ দখলে রেখে সেখানে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খালটি একসময় এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে খালের একাংশ ভরাট করে দেয়াল নির্মাণ করায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযুক্তের বক্তব্য নিতে গেলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফোনে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কল রেকর্ড করে পরবর্তীতে তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের অপচেষ্টা চালান। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়। কিন্তু এভাবে কল রেকর্ড করে হুমকি দেওয়া বা ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখল করে কেউ পার পেতে পারে না। খালটি উদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান তারা।
সরেজমিনে জানা গেছে, ফেনী এসিল্যান্ড হাজী বশির মিয়াকে দেয়াল ভেঙে খালের পাড় থেকে আরও পাঁচ ফুট উত্তরে সরিয়ে নির্মাণ কাজ করার নির্দেশ দেন। বশির মিয়া দেয়ালের কিছু অংশ ভাঙলেও নতুন করে যে গেইট নির্মাণ করা হয়েছে, তা এখনো অপসারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের মতো ঘটনা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং সামাজিকভাবে উদ্বেগজনক। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।