
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
উপ-হেডলাইন: দুই ঘণ্টার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বাজার ও হাসপাতালে যেতে হয়; দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের
বান্দরবানের রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত পাঁচটি পাহাড়ি গ্রামে দেড়শোর বেশি পরিবার বসবাস করলেও সেখানে পৌঁছানোর কোনো পাকা সড়ক নেই। নদী পার হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি পথই একমাত্র ভরসা।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকা—সব ক্ষেত্রেই চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের আলেচুপাড়া, তংমকপাড়া, কান্নাপাড়া, বাগানপাড়া ও থোয়াইবতং পাড়ায় মারমা ও বম সম্প্রদায়ের দেড়শোর বেশি পরিবার বসবাস করছে। বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পাহাড়ি সড়ক পাড়ি দিয়ে রুমায় পৌঁছানোর পর কক্ষংঝিরি বাজার থেকে সাঙ্গু নদী পার হয়ে আবার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা হাঁটতে হয়। পুরো পথে নেই কোনো পাকা রাস্তা বা যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা। গ্রামবাসীরা সপ্তাহে একদিন—বুধবার—বাজারে আসেন; জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যদিন কেউ এই কষ্টকর পথ পাড়ি দেন না।
সড়ক না থাকার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবায়। গত ২২ জানুয়ারি আলেচুপাড়ার এক গৃহবধূ প্রসব বেদনায় আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘরেই প্রসবের সময় যমজ সন্তানের একজন মারা যায়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কম্বলে মোড়ানো স্ট্রেচারে করে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে শিশুটিকে বাঁচানো যেত।
এলাকার অধিকাংশ মানুষ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাস্তা না থাকায় ফসল বাজারে নিতে না পেরে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কাঁধে করে বস্তা নিয়ে বাজারে পৌঁছাতে গিয়ে অনেক সময় ফসলের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
আলেচুপাড়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। যোগাযোগ সমস্যা ও আর্থিক সংকটে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। স্থানীয়দের মতে, একটি সড়ক নির্মাণ হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই উন্নতি সম্ভব।
স্থানীয়দের দাবি, কক্ষংঝিরি বাজার থেকে আলেচুপাড়া পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হলে পাঁচ গ্রামের দেড়শোর বেশি পরিবারের জীবনমান বদলে যাবে। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা জানান, সড়ক নির্মাণের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান করা হোক।