
মায়ের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামে ফিরলেন প্রবাসী ছেলে
আবু বক্কর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার ফেনী
সোনাগাজীতে বিরল দৃশ্য—জাপানপ্রবাসী আকবর হোসেন টিপুর উদ্যোগে মায়ের আকাশযাত্রা, গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার জন্ম দিয়েছেন জাপানপ্রবাসী আকবর হোসেন টিপু।
মায়ের আজীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে তাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের সফরপুর সাহেবের হাট জাকি-মোশাররফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে।
এমন দৃশ্য দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় জমায় মাঠে। গ্রামের সাধারণ মানুষদের কাছে এটি ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকবর হোসেন টিপু সকালে জাপান থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান।
এরপর সেখান থেকে তিনি তার মা জোসনারা বেগম, ভাই আরু মিয়া, ফুফু আমেনা বেগম ও বোন হোসনে আরা বেগমকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে নিজ গ্রামে আসেন।
হেলিকপ্টার অবতরণের পর আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে জীবিকার সন্ধানে জাপানে পাড়ি জমান টিপু।
সেখানে চাকরির পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও করছেন তিনি। দুই বছর পর মায়ের ইচ্ছা পূরণে তাকে পবিত্র হজ পালন করান। পরবর্তীতে মায়ের স্বপ্ন অনুযায়ী গ্রামে একটি বিলাসবহুল বাড়িও নির্মাণ করেন।
তবে মায়ের আরেকটি ইচ্ছা ছিল—হেলিকপ্টারে চড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করা। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন টিপু।
পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট এবং এখনো অবিবাহিত।
আকবর হোসেন টিপু বলেন, “আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল বড় হজ করা, তাকে হজ করিয়েছি।
একটি সুন্দর বাড়ি করার স্বপ্ন ছিল, সেটিও পূরণ করেছি। সর্বশেষ ইচ্ছা ছিল হেলিকপ্টারে চড়া—সেটাও পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমি চাই, প্রত্যেক সন্তান যেন তাদের বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসে।”
তার বড় ভাই আরু মিয়া বলেন, “বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা মায়ের স্নেহে বড় হয়েছি। আমার ছোট ভাই টিপু মায়ের সব স্বপ্ন পূরণ করছে। তার কারণে আমরাও আজ এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে পেরেছি।”
এদিকে টিপুর মা জোসনারা বেগম আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার সন্তানের মাধ্যমে আমার সব স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
হেলিকপ্টারে চড়ে খুব ভালো লেগেছে। আমাদের গ্রামের মানুষও এত কাছ থেকে কখনো হেলিকপ্টার দেখেনি।”
হেলিকপ্টারটি অবতরণের সময় প্রচণ্ড বাতাসে চারদিকে ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের একটি দল সেখানে দায়িত্ব পালন করে।
এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের আনন্দই নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের জন্য এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।
পাশাপাশি এটি মনে করিয়ে দেয়—সন্তানের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা থাকলে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব নয়।