
জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রধান মানিকগঞ্জ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক ও সাম্যের সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
‘বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, সাহিত্য পাঠ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। তাঁর সাহিত্যকর্মে শোষণ, বঞ্চনা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ফুটে উঠেছে। বর্তমান সমাজে বৈষম্য ও বিভাজন দূর করতে নজরুলের মানবতাবাদী আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, ঢাকার আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, কবি ও কথাসাহিত্যিক লতিফুল ইসলাম শিবলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম)। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন নজরুল প্রমিলা পরিষদ, মানিকগঞ্জের সভাপতি আব্দুল মোন্নাফ খান।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ জেলা জাসাসের সদস্য সচিব শামীম বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নজরুলের লেখনীতে মানুষের অধিকার, সাম্য ও মর্যাদার কথা বারবার উঠে এসেছে। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির বিভেদকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষের পরিচয়কে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁর কবিতা ও গানে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু আইন ও নীতিমালা যথেষ্ট নয়; মানুষের চিন্তা ও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। আর সেই পরিবর্তনের জন্য নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনার সঙ্গে পরিচিত করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাহিত্য পাঠ প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও সাহিত্যপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় নজরুলের কবিতা ও সাহিত্যকর্ম পাঠের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় কবির সৃষ্টিশীলতা ও সাম্যের বাণী তুলে ধরেন।
পরে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ফুটে ওঠে নজরুলের বিদ্রোহ, প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, নজরুলের চেতনা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সমাজের প্রতিটি স্তরে সাম্য, মানবিকতা, সম্প্রীতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তাঁর আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ নির্মাণ সম্ভব হবে।