
মোঃ শাহিনুল খান পলাশ,পাবনা
পাবনার কৃতি সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) এ কে খন্দকার (বীর উত্তম) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে তিনি আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মহান মুক্তিযুদ্ধের এক কিংবদন্তি এ কে খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর উপ-অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা ও দেশের প্রতিরক্ষা সুসংগঠিত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ঐতিহাসিক ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে তিনি উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর পথিকৃৎ স্বাধীনতার পর এ কে খন্দকার স্বাধীন বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের বিমান বাহিনী গঠনে তাঁর নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অবদান ২০০৮ সালে তিনি পাবনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মন্ত্রিত্বকালে পাবনার সার্বিক উন্নয়নে নেওয়া হয় বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নগরবাড়ি মেরিন একাডেমি, পাবনা–ঢাকা রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর অবদান স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। রাষ্ট্রীয় সম্মান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের জন্য তাঁকে রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর উত্তম’-এ ভূষিত করা হয়।শোকের ছায়া এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে পাবনা জেলাসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।