
মোঃ শাহিনুল খান পলাশ জেলা প্রতিনিধি
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পাবনার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ‘দূর্জয় পাবনা’ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়ায় ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্মৃতিসৌধে তালা ঝুলতে দেখে তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য পদযাত্রা নিয়ে পাবনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ‘দূর্জয় পাবনা’ স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হন। এ সময় স্মৃতিসৌধের ভেতর ও বাইরে মোট পাঁচটি তালা ঝুলতে দেখা যায়। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকদের সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী ওয়াজেদ মিয়া ও আরদালী সুজন মিয়া ঘটনাস্থলে আসেন। সাংবাদিকরা গেটের বাইরে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্যোগ নিলে কিছুক্ষণ পর একজন কর্মচারী একগুচ্ছ চাবি নিয়ে এসে তালা খুলে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মচারী জানান, আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস—এ তথ্য তার জানা ছিল না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও স্মৃতিসৌধ খোলা রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই তালা খোলা হয়নি। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্টাফ ওয়াজেদ আলী বলেন, এটি আমাদের চেতনার বিষয়। আমরা বুকে ও মনে এই চেতনা লালন করি। তবে কর্মচারীদের আগে থেকে জানানো হয়নি কেন—তা আমার জানা নেই। পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, এমন দৃশ্য দেখতে হবে—এটা কল্পনাও করিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে মেধাশূন্য করতে শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়। অথচ আজ সেই চেতনার এমন অবস্থা জেলা প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতারই প্রমাণ।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, জেলা প্রশাসন কি জানে না আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, নাকি জেনেও পালন করতে চায় না—এটাই প্রশ্ন। এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। পাবনা অন্নদা গোবিন্দা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতীন খান জানান, সকাল আটটায় শ্রদ্ধা জানাতে এসে স্মৃতিসৌধের ভেতরের দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের পর সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই স্মৃতিসৌধটিতে তালা ঝুলে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ক্রমেই অবহেলার শিকার হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শুধুমাত্র পাবনা প্রেসক্লাব, অন্নদা গোবিন্দা পাবলিক লাইব্রেরি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে। এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এদিকে পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।