
মো. রেজাউল হক রহমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের হোটেল কর্মচারী ইয়াছিন (২৫), তিনি শফিকুল ইসলামের ছেলে।
এর আগে একই হাসপাতালে মারা যান শিপন (৩০), যিনি বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোন্নাফ ওরফে মনেক মিয়া ডাকাতের ছেলে।
এ ঘটনায় আরও দুইজন — নূর আলম ও এমরান মাস্টার — গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নূরজাহানপুর গ্রামের শিপনের সঙ্গে থোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাতের আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল।
শনিবার রাতে নবীনগর উপজেলার গণিশাহ মাজার এলাকার একটি হোটেলে খাবার খাওয়ার সময় রিফাত, আরাফাতসহ কয়েকজন শিপনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে শিপন, হোটেল কর্মচারী ইয়াছিনসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর মনেক মিয়ার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের এমরান মাস্টারের ওপর পাল্টা হামলা চালালে তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির মালামালের ভাগাভাগি নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”