
সীমান্ত পেরিয়ে কুরুকপাতা চাকমাপাড়ায় অবস্থানের অভিযোগ—অনুপ্রবেশে সহায়তার সন্দেহে দুই নৌকার মাঝি আটক
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী কুরুকপাতা এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের ১৩ জন চাকমা নাগরিককে আটক করেছে পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্প।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ১ জন শিশু রয়েছে। পরে তাদের পুশব্যাকের উদ্দেশ্যে ৩০ বিজিবির আওতাধীন পোয়ামুহুরী বিওপি কমান্ডারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের টেকনাফ বিওপির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাতে-
আলীকদম উপজেলার ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নের কুরুকপাতা বাজারসংলগ্ন চাকমাপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আলীকদম সেনা জোনের আওতাধীন পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আরিফের (৫৮ ইবি) নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ১৩ জনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের মিয়ানমার অংশের নাহানপাড়া এলাকা থেকে ওই ১৩ জন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে তারা কুরুকপাতা বাজারসংলগ্ন চাকমাপাড়ায় অবস্থান নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ক্যাপ্টেন মো. আদনান সাকিবের (৫৮ ইবি) নেতৃত্বে পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্প থেকে একটি বিশেষ টহল দল নৌকাযোগে কুরুকপাতা এলাকায় যায়। পরে চাকমাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী ১৩ জনকে আটক করে পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে সহায়তার সন্দেহে দুই নৌকার মাঝিকেও আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধুমুখপাড়ার ইয়ংএ ম্রোর ছেলে মাংখাই ম্রো (৩২) এবং একই ইউনিয়নের জায়লাতুলীপাড়ার লিউলক ম্রোর ছেলে বুককুক ম্রো (২৮)।
আটক দুই,মাঝিকে- আলীকদম সেনা জোনের আওতাধীন পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে স্থানীয় সাকায়ং ম্রোর জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের অভ্যন্তরের নাহানপাড়া এলাকা থেকে আরও বেশ কয়েকজন নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারা সীমান্তবর্তী ফাতরাপাড়া, মরনিপাড়া, পাহাড়ভাঙাপাড়া ও সিন্ধুমুখ এলাকা হয়ে কুরুকপাতা বাজারসংলগ্ন চাকমাপাড়ায় এসে অবস্থান নিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
তবে এসব অনুপ্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা, তাদের বর্তমান অবস্থান এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুরে- পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার আটক ১৩ জন মিয়ানমারের নাগরিককে ৩০ বিজিবির আওতাধীন পোয়ামুহুরী বিওপি কমান্ডার জেসিও নায়েব সুবেদার মো. জসিম উদ্দিনের কাছে পুশব্যাকের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করেন।
পরে বিজিবির নেতৃত্বে আটক ১৩ জনকে পুশব্যাকের উদ্দেশ্যে টেকনাফ বিওপির দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সীমান্ত এলাকায় বিদেশি নাগরিকের অবৈধ অনুপ্রবেশের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।