
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ইশরাক বলেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে চান। দল ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না ফেলার বিষয়টিও তাঁর সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যেভাবে বিতর্কের সূত্রপাত
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইনসংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়—এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকেও অস্ত্র হাতে দেখা যায়। ঘটনার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়া, জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শন এবং এর আইনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্তের উদ্যোগ নেয় বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।
অস্ত্র হাতে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এবং থানাকে অবহিত করে তাঁরা ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি অল্প সময়ের জন্য নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় কেউ আঘাতপ্রাপ্ত বা কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর বক্তব্য, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি; পরিস্থিতির কারণে আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন।
পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে আগের দিনের আলোচনা
এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে কয়েকটি গণমাধ্যমে সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওই রাতে ইশরাক এ খবরকে গুজব বলে দাবি করেন। তাঁর প্রেস কর্মকর্তাও তখন পদত্যাগের নির্দেশের খবর অস্বীকার করেছিলেন। সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইশরাক জানান, দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা
ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, এখন থেকে একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদক নির্মূলে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চান। সার্বিকভাবে, মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তবে তাঁর পদত্যাগের পেছনে ঠিক কী কী বিষয় কাজ করেছে, সে বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যের বাইরে অন্য কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।