
স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে যুবকের অনশন, ডাসারে চাঞ্চল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর | ১ এপ্রিল, ২০২৬
মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতি ও স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে অনশন শুরু করেছেন বিশ্বজিৎ বাড়ৈ (২৮) নামে এক যুবক। গত মঙ্গলবার থেকে উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নবগ্রাম ইউনিয়নের বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্রের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মনতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈর (২৩) দীর্ঘ ১০ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিশ্বজিতের দাবি, চার বছর আগে তারা ঢাকায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তারা ঢাকায় দীর্ঘ সময় একত্রে বসবাসও করেছেন।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
অনশনরত বিশ্বজিৎ সাংবাদিকদের জানান, অনুশীলার নার্সিং পড়াশোনার জন্য তিনি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই পরিবারের প্ররোচনায় অনুশীলা তার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন। একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে নিরুপায় হয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে অনশনে বসেন। বিশ্বজিৎ বলেন:
”আমাদের সম্পর্কের কথা সবাই জানে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না।”
অন্যদিকে, অনুশীলা বাড়ৈ বিয়ের কথা স্বীকার করলেও অভিযোগ করেছেন যে, বিশ্বজিৎ তাকে জোর করে ‘কোর্ট ম্যারিজ’ করিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহ আগে তিনি বিশ্বজিৎকে ডিভোর্স দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে সংসার করতে ইচ্ছুক নন। তবে পড়াশোনার খরচের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি।
পরিবারের বক্তব্য
অনুশীলার বাবা মনতোষ বাড়ৈ ও তার মা জানান, তারা বিষয়টি পরে জানতে পেরেছেন। পড়াশোনায় বিশ্বজিতের আর্থিক সহায়তার কথা স্বীকার করে তারা বলেন, “মেয়ে যদি সংসার করতে চায় তবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এখন সে আর যেতে চাইছে না।”
স্থানীয় ও পুলিশের ভূমিকা
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় সবার জানা, তাই বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে শেষ করার চেষ্টা চলছে।
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।