
বুলবুল হোসেন, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রংপুরের তারাগঞ্জে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির নিজ কার্যালয়েও—বিদ্যুৎ অফিসেই মিলছে না বিদ্যুৎ!
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১ টার দিকে সরেজমিনে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর তারাগঞ্জ জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের ফ্যানগুলো বন্ধ। তবে কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্র আইপিএসের মাধ্যমে চালু রাখা হয়েছে।
জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, তারাগঞ্জ উপকেন্দ্র-১ (চিকলী) ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২ মেগাওয়াট। বিপরীতে এতদিন বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছিল মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। অপরদিকে তারাগঞ্জ উপকেন্দ্র-২ (ইকরচালী)-এর চাহিদা প্রায় ৮ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ ছিল ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
দীর্ঘ এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে উপজেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। প্রচণ্ড গরমে বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও বিঘ্ন ঘটছে। তারাগঞ্জের একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে জানা গেছে। অনেক শিক্ষার্থীকে মোমবাতি, চার্জার লাইট কিংবা মোবাইলের আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।অন্যদিকে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি, সেলাই মেশিন, ফ্রিজসহ বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পড়েছেন বিপাকে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কাজের গতি কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি সময় ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কখন বিদ্যুৎ আসবে, তারও কোনো ঠিক থাকে না। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।’
তবে ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, এদিন বিকেল থেকে চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে।
তারাগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. শরীফ লেহাজ আলী বলেন, ‘আমরা বিদ্যুতের চাহিদার অর্ধেক বরাদ্দ পাই। তাই সীমিত বিদ্যুৎ দিয়ে সাপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে আজ (১৩ আগস্ট) থেকে চাহিদা অনুযায়ী ফুল মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।’
এই পূর্ণ বরাদ্দ কতদিন থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কতদিন এই ফুল মেগাওয়াট বরাদ্দ থাকবে, তা বলা যাচ্ছে না।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখে অপ্রয়োজনীয় লোডশেডিং কমানো হোক এবং তারাগঞ্জে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।