
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ
চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ; দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর ফেনী শহরে আবারও প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, চাঁদা না দেওয়ার ‘অপরাধে’ টার্গেট করা হয়েছে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান “হাজীর মিষ্টি মেলা”। অভিযোগ অনুযায়ী, মনির ও ইকবালের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে দোকানটিতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘটনাটি ঘটে দিনের বেলায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করেই দোকানে ঢুকে আসবাবপত্র, কাচের শোকেস ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর শুরু করে।
এ সময় আশেপাশের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে নিজেদের দোকান বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির একাধিক সদস্য জানান, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা দাবি করে আসছে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের ওপর এমন হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
“হাজীর মিষ্টি মেলা”-র মালিকও একই ধরনের চাপের মুখে ছিলেন বলে জানা গেছে।
একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা প্রতিদিন ভয়ে থাকি।
ব্যবসা করবো, না নিজের নিরাপত্তা দেখবো—এই চিন্তায় থাকতে হয়।
যদি চাঁদা না দিই, তাহলে দোকান ভাঙচুর বা হামলার শিকার হতে হয়।”
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ীই নিরাপত্তাহীনতার কারণে আগেভাগেই দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন।
এতে করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, এলাকাবাসী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তাদের দাবি, বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
তারা মনে করছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা সরাসরি অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দিনের আলোতে এমন সন্ত্রাসী হামলা হয়, আর আমরা কিছুই করতে পারি না—এটা খুবই হতাশাজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
এলাকাবাসীর একটাই স্পষ্ট দাবি—এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের এমন প্রবণতা শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো সমাজে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে এ ধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বর্তমানে সবার মুখে একটাই প্রশ্ন—চাঁদা না দিলে কি ব্যবসা চালানোই অপরাধ হয়ে গেল?
এই প্রশ্নের জবাব এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই দিতে হবে।
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।